এসটিএফ ও এটিএফের মুকুটে বড় সাফল্য! ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মেগা বৈঠক

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে আজ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শিলিগুড়িতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সম্পর্কিত বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন সম্পন্ন করার পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসটিএফ (STF), অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এবং অ্যান্টি নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স (ANTF)-এর কার্যকারিতা ও সমন্বয় নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন। গত ১০০ দিনে এই বিশেষ বাহিনীগুলির একের পর এক সাফল্য এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে পেশ করা হবে। বিশেষ করে বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড ও অ্যান্টি নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর রাজ্য পুলিশের অধীনে অন্যান্য এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার রূপরেখা এই বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্ব পাবে।
পাশাপাশি, দেশের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিয়েও একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত পর্যালোচনা বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিএসএফের (BSF) পরিকাঠামো উন্নয়ন, কাঁটাতার নির্মাণ এবং আউটপোস্ট স্থাপনের জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান নেওয়া হবে। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি।
সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের আধুনিকীকরণ—গত ১০০ দিনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যানও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে। সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিএসএফকে ইতিমধ্যেই ৭৬৭.১০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিএসএফের সার্বিক সুবিধা ও পরিকাঠামো মজবুত করতে আরও ৩৬১.৯৩ একর জমি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য। উত্তর ২৪ পরগনায় ইছামতী নদী বরাবর সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে প্রায় ৯৯৫ একর জমির সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। শুধু সীমান্ত নয়, ১২টি সীমান্তবর্তী জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ১,৩৮৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে, যার জন্য মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ১৮২.৪৬ কোটি টাকা।
আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী করতেও একাধিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৩টি বিশেষ এনআইএ (NIA) আদালত তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২টি বিশেষ আদালতের উদ্বোধন হয়ে গেছে। গত তিন মাসে রাজ্যের ২৫টি থানায় নতুন করে সিসিটিভি (CCTV) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পুলিশের নজরদারি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে ১২টি রেডিও মোবাইল ভ্যান এবং ৯টি মহিলা টহলদারি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের আধুনিক যোগাযোগের খাতিরে ১,৫০০টি রেডিও হ্যান্ডসেট ট্রান্সমিটার সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে, রাজ্যের নিরাপত্তা পরিকাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া এই সামগ্রিক প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলি আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।