আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহতের সংখ্যা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ তালেবান

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আবারও এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে পাকিস্তান ব্যাপক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘নৃশংস অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিবিসি পশতুকে দেওয়া তথ্যানুসারে, তালেবান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১০০ জন হতাহত হয়েছেন। বিশেষ করে পাকতিকা প্রদেশের মানদিখেল গ্রামে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্যমতে, এই অভিযানে ২৯ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই ‘টার্গেট কিলিং’ চালানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীগুলো তাদের দেশে আক্রমণ চালাচ্ছে। যদিও তালেবান সরকার বরাবরের মতোই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। পাকিস্তান ও তালেবান সরকারের দেওয়া হতাহতের তথ্যের মধ্যে বিশাল ফারাক থাকায় এই সংঘাতের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধু রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে এক আত্মঘাতী হামলায় তিন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় চারজন হামলাকারীর মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি একজন আফগান নাগরিক বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। এই ঘটনার ঠিক পরের দিনই রবিবারের এই অভিযানটি পরিচালিত হলো। টিটিপি (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান)-এর শাখা জামাত-উল-আহরার করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

গত অক্টোবরে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় অতীতের সব শান্তি চুক্তিই কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর আগেও ফেব্রুয়ারিতে এবং মার্চ মাসে কাবুলের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলার জেরে শতাধিক প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় এই থেমে থেমে চলা সামরিক সংঘর্ষ কেবল দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককেই তলানিতে ঠেলে দিচ্ছে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় সংকট তৈরি করছে। সীমান্তবাসীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম আতঙ্ক। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক চাপে দুই পক্ষ আবারও আলোচনায় ফিরে আসে, নাকি সীমান্ত সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।