পরিচালকের আসনে চৈতি ঘোষাল! ঋতুপর্ণা-অমর্ত্য জুটিতে আসছে নতুন চমক ‘নেভার মাইন্ড’

ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন চৈতি ঘোষাল। তবে এবার তিনি ভিন্ন মেজাজে। পরিচালকের আসনে বসে নিজের প্রথম সিনেমা ‘নেভার মাইন্ড’ নিয়ে হাজির অভিনেত্রী। মুখ্যভূমিকায় দেখা যাবে টলিউডের সুপারস্টার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং চৈতি-পুত্র অমর্ত্য রায়কে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলেন তিনি।
পরিচালনায় আসার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে চৈতি বলেন, “অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা, কিন্তু পরিচালনাটা আমার দীর্ঘদিনের আবেগের ফসল। দীর্ঘদিন পরিচালকদের সাথে কাজ করার সুবাদে আমার মধ্যে একটা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছিল। ‘নেভার মাইন্ড’-এর গল্পটা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল, তখনই মনে হলো এই গল্পটা আমারই বলা উচিত। আমার স্বামী ও ছেলের এই বিষয়ের ওপর ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার ফলে বিষয়টি সহজ হয়েছে। বিশেষ করে রূপম ইসলামের মতো শিল্পীদের সহযোগিতা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।”
কাস্টিং প্রসঙ্গে চৈতি জানালেন ঋতুপর্ণাকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে ছিল গল্পের চরিত্রের সাথে তাঁর মিল। চৈতির কথায়, “আমি এমন একজনকে চেয়েছিলাম যার ব্যক্তিত্বে একদিকে বিদেশে থাকার আধুনিকতা, অন্যদিকে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকবে। ঋতুপর্ণা ছিল আমার প্রথম পছন্দ। সে শুধু অভিনয়ই করেনি, প্রযোজকের দায়িত্ব নিয়েও আমার স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে।” নিজের ছেলে অমর্ত্যকে নিয়ে তিনি বলেন, “অমর্ত্য মিউজিশিয়ান বলেই এই চরিত্রে তাকে বেছে নেওয়া। আমরা একে অপরের কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছাপিয়ে পেশাদারিত্বই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।”
টলিউডের নতুন প্রজন্মের কাজের সুযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চৈতির কণ্ঠে কিছুটা হতাশা ঝরে পড়ল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রতিভাবান ছেলেমেয়েরা কেন কলকাতায় কাজ পাচ্ছে না? ঋদ্ধি সেন, ঋতব্রত বা অমর্ত্যর মতো অভিনেতারা কেন নিয়মিত বাংলা ছবিতে মুখ হওয়ার সুযোগ পায় না? শুধু রিলস বা পাপারাৎজি দিয়ে নায়ক-নায়িকা বাছাই করলে বাংলার ছবিরই ক্ষতি। মেধাবী ছেলেমেয়েরা যখন কাজ না পেয়ে বাইরে চলে যায়, তখন দর্শকও তো নতুন প্রজন্মকে চেনার সুযোগ হারায়।”
পরিচালক হিসেবে চৈতি ঘোষালের এই নতুন যাত্রা টলিউডের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা এখন সময়ই বলবে। তবে তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রতি স্পষ্ট মতামত যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।