আন্দোলনরত ছাত্রদলের ওপর পুলিশি নির্যাতন! জরুরি অবস্থার স্মৃতি হাতড়ে মোদী সরকারকে কড়া জবাব নাড্ডার!

আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্মম পুলিশি নির্যাতন এবং সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিল্লি পুলিশের বিতর্কিত হানা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষেই এক প্রবল রাজনৈতিক ঝড় ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশে গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বিপন্ন হয়ে পড়েছে বলে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। এর তীব্র পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার শাসক দলের নেতা জেপি নাড্ডা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেউ যদি সক্রিয় ছাত্র আন্দোলন বা রাজনীতিতে যুক্ত হন, তবে তাঁকে পুলিশের আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারির মুখোমুখি হওয়ার জন্য সবসময় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, নিজের অতীতের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, দেশের অন্ধকারময় জরুরি অবস্থার দিনে যখন তিনি ছাত্র আন্দোলন করতেন, তখন তাঁকে ঠিক এভাবেই দু’বার সরাসরি ক্লাসরুম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গত বুধবার সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হওয়ামাত্রই খাড়গের তোপের মুখে পড়ে কেন্দ্র সরকার। মূলত গত ২০ জুলাই রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত ছাত্র বিক্ষোভ এবং এর ঠিক পরেই সিপিআই(এম)-এর প্রধান কার্যালয়ে দিল্লি পুলিশের একযোগে হানার চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ চত্বরের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজ্যসভার অধিবেশন চলাকালীন সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস গতকালের এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি হাউসে জানান যে, দিল্লির একদল পুলিশ বাহিনী ছাত্র নেত্রী ঐশী ঘোষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে সোজা সিপিআই(এম)-এর জাতীয় কার্যালয়ের অন্দরে প্রবেশ করেছিল। জন ব্রিটাসের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন ছিল, একটি স্বীকৃত জাতীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ কীভাবে আদালতের যথাযথ নোটিশ ছাড়াই এমন ধড়পাকড় চালাতে পারে? যদিও পুলিশের তরফে সাফাই দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ২০২১ সালের জেএনইউ ক্যাম্পাসের একটি পুরনো প্রতিবাদের মামলার সূত্রে ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে পরোয়ানা রয়েছে এবং সেই আইনি বাধ্যবাধকতার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধী শিবির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বিবৃতির জোরালো দাবি তুলেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের গণতন্ত্র আজ চরম হুমকির মুখে, সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ সম্পূর্ণ নিরাপদ নয় এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে যারা নিয়মিত ‘নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ’ করছেন, তারা কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। খাড়গের এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের জবাব দিতে গিয়েই জেপি নাড্ডা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের ভূমিকার পক্ষ নেন এবং জানান যে পুলিশ আইন মেনেই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।
এদিকে এই পুলিশি দমনপীড়ন ও ছাত্র গ্রেফতারের ইস্যু শুধুমাত্র রাজ্যসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং লোকসভার অন্দরেও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিরোধী শিবির। লোকসভায় অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে চলমান গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তৃতার ঠিক আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখে স্পিকার অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে জানান যে, বিশৃঙ্খলা বন্ধ না হলে অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করা হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও দিল্লির এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে দেশের কুখ্যাত জরুরি অবস্থার থেকেও বহু গুণে ‘ভয়াবহ’ বলে তোপ দেগেছিলেন। সব মিলিয়ে, গত ২০ জুলাইয়ের পুলিশি ক্র্যাকডাউন এবং ছাত্র গ্রেফতারের এই জ্বলন্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের উভয় কক্ষেই শাসক বনাম বিরোধীদের রাজনৈতিক সংঘাত এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।