২০৩৫-এর মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজ! চিনের আগ্রাসন রুখতে ভারতের এই মেগা মাস্টারপ্ল্যান জানলে চমকে যাবেন!

পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তার জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, আধুনিক ও সম্পূর্ণ স্বনির্ভর নৌবহর গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে ভারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০টি বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ ও সর্বাধুনিক সাবমেরিন কার্যকর রয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নমাফিক ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিপইয়ার্ডে একসঙ্গে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণের কাজ জোরকদমে চলছে।
চলতি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নৌবাহিনী গত ২০২৫ সালে মোট ১২টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ এবং একটি ঘাতক সাবমেরিন নিজেদের নৌবহরে সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যে নৌবহরে আরও প্রায় ১৫টি নতুন ও অত্যাধুনিক জাহাজ যুক্ত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা হবে ভারতীয় নৌবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক রণতরী ও জাহাজ অন্তর্ভুক্তির একটি সর্বকালীন রেকর্ড। উল্লেখ্য, ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে একটি প্রকৃত ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ বা গভীর সমুদ্রগামী বিশ্বমানের নৌবাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা কেবল নিজেদের দীর্ঘ উপকূল রক্ষা করতেই নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ সুদূর গভীর সমুদ্রে নিজেদের কৌশলগত শক্তি ও আধিপত্য প্রয়োগেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। এছাড়া, আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে যুদ্ধজাহাজের কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ বা উপাদানের স্তরেও পূর্ণাঙ্গ স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে একটি ‘সম্পূর্ণ দেশীয় বাহিনী’ হয়ে ওঠাই এই ভারতীয় নৌবাহিনীর মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সামুদ্রিক শক্তির দিকে তাকালে প্রতিবেশী চিনের নৌ-শক্তির বিশালতার চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংখ্যার দিক থেকে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবহরের অধিকারী। ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’ অনুযায়ী, তাদের বহরে বিভিন্ন আকারের ৮৪১টিরও বেশি যুদ্ধযান ও নৌ-যান রয়েছে। চিনের এই বিশাল ও বিপজ্জনক নৌবহরে রয়েছে তিনটি সক্রিয় বিমানবাহী রণতরি বা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার (যথা—লিয়াওনিং, শানডং ও ফুজিয়ান), ৫৩টি ডেস্ট্রয়ার, ৪৬টি ফ্রিগেট এবং প্রায় ৬১ থেকে ৬৮টি শক্তিশালী ডিজেল ও পারমাণবিক সাবমেরিন। চিনা নৌবাহিনীর মোট জনবল আড়াই লক্ষেরও বেশি এবং তারা কৌশলগতভাবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য জিবুতি ও কম্বোডিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
এর বিপরীতে, ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কৌশলগত পরিধি অত্যন্ত সীমিত। মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষার সুরক্ষার মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গ্রিন-ওয়াটার নেভি’ বা উপকূল-কেন্দ্রিক নৌবাহিনী হিসেবে গণ্য করা হয়। পাকিস্তানের এই সীমিত নৌবহরে প্রায় ১২১ থেকে ১৪৮টি ছোট-বড় নৌযান রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৩৬টি প্রধান সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাদের বহরে ৮ থেকে ৯টি সক্রিয় সাবমেরিন উপস্থিত থাকলেও ভারতের মতো বিশাল বিমানবাহী রণতরী বা উন্নত গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের মতো বড় আকারের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধজাহাজের মারাত্মক অভাব রয়েছে।
সবমিলিয়ে, ভারত যেভাবে নিজের সামুদ্রিক শক্তিকে ধাপে ধাপে জোরদার করতে চলেছে, তাতে দেশের সামরিক কৌশল এক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। একদিকে চিন যখন ভারত মহাসাগরসহ বিশ্বজুড়ে তাদের সামরিক নৌ-উপস্থিতি বিপজ্জনকভাবে বাড়াচ্ছে এবং পাকিস্তান নিজেদের জীর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, তখন ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি জাহাজের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলার ভারতের এই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের অখণ্ড কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হবে।