আধার, রেশনের পর এবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডও! SIR-এর জন্য নতুন দাবি রাজ্যের, কী হবে ভোটার তালিকায়?

সারা দেশে সিঙ্গেল ইলেক্টরাল রোল বা SIR চালুর জল্পনার মধ্যেই নতুন দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে আবেদন করেছেন যেন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকেও গণ্য করা হয়। এই তালিকায় ইতিমধ্যেই আধার কার্ড ও রেশন কার্ড যোগ করার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য।

কেন এই নতুন দাবি?
নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বর্তমানে ১১টি নথি বৈধ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডকে এই তালিকায় ১২ নম্বর হিসেবে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এটি বিহারের একটি নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে করা হয়েছিল। এর পরেও রাজ্য সরকার আবেদন করেছে যাতে আধার, রেশন ও স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকেও এই তালিকায় যুক্ত করা হয়। রাজ্যের যুক্তি, যেহেতু পশ্চিমবঙ্গ সরকার যাচাই-বাছাই করে রাজ্যের সব বাসিন্দাকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দিচ্ছে, তাই এটিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা উচিত। এর মাধ্যমে বাংলার কোনো বাসিন্দার ভোটার কার্ড পেতে যাতে অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় রাজ্য।

বিরোধীদের কটাক্ষ
রাজ্যের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, “রাজ্য সরকার ভয় পেয়েছে। তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে তাদের রেশন কার্ড ও আধার কার্ড বানিয়ে দিয়েছে। যেখানে আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বানানো তো বাঁ হাতের খেলা।” তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড কোনোভাবেই নাগরিকত্বের প্রমাণ হতে পারে না।

কী হতে চলেছে SIR?
বিহারের পর এবার সারা দেশেই সিঙ্গেল ইলেক্টরাল রোল বা SIR চালু করার পথে হাঁটছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জানা গেছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব রাজ্যকে এর জন্য প্রস্তুতি শেষ করতে বলা হয়েছে। অক্টোবরে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে নির্বাচন থাকায় এই রাজ্যগুলিতে SIR আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে বাংলায় SIR চালু হলে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের নতুন দাবি নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে কি না, এখন সেটাই দেখার।