‘আদালত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিষ্ঠান নয়!’ অভিষেকের বিদেশযাত্রার মামলা ঘিরে হাইকোর্টে বড় নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্টে এক বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তা এদিন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত বিদেশযাত্রার কোনো অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরিবর্তে তাঁকে সম্পূর্ণ দেশীয় চিকিৎসা পরিকাঠামোর ওপর ভরসা রাখতে বলা হয়েছে।
আগামীকাল, ৬ আগস্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার সরকারি এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের অপথলমোলজি বা চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে সশরীরে হাজিরা দিয়ে চোখ পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ পেয়েই এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান একজন বিশিষ্ট ও অভিজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করবেন। সেই গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবেন।
শুধু তাই নয়, এই পরীক্ষার গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আগামী ৭ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের কাছে একটি বিস্তারিত মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেবে এসএসকেএম হাসপাতালের সেই বিশেষ চিকিৎসক দল। আদালতের বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা চিকিৎসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিন এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ও নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই আদালত কোনো পেশাদার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসার কোনো হাসপাতাল নয়। তাই কোনো নেতার চোখের জটিল সমস্যার প্রকৃত অবস্থা বা চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিচার করার জন্য আদালতের পক্ষে সরাসরি রায় দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই এসএসকেএম হাসপাতালের সরকারি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখ পরীক্ষা করে কী নির্দিষ্ট মতামত দেন, তা জানতে অত্যন্ত উৎসুক ও তৎপর রয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এই কড়া নির্দেশ ও আইনি জটিলতার জেরে আপাতত তৃণমূল নেতার বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে গেছে এবং সমগ্র রাজনৈতিক মহলে এই রায় নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও জল্পনা শুরু হয়েছে।