আত্মপ্রচারের রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর! নাম বদল নিয়ে তুললেন বড় প্রশ্ন

মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সরকারি প্রকল্পের প্রচারে তাঁর অনুপ্রেরণা ছিল অন্যতম এক চেনা শব্দবন্ধ, যা তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি ও নেতারাও নিয়মিত ব্যবহার করতেন। তবে সম্প্রতি প্রাক্তন হওয়ার পর এক বিস্ফোরক দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন যে, মুখ্যমন্ত্রী পদ ব্যবহার করে তিনি কখনই কোনও আত্মপ্রচার করেননি। সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভে এসে বর্তমান রাজ্য সরকার এবং বিজেপিকে একাধিক বিষয়ে তীব্র নিশানা করেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সূত্রেই তিনি অভিযোগ তোলেন যে, তাঁর আমলে চালু হওয়া বিভিন্ন কল্যাণমুখী প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান প্রশাসনে মুখ্যমন্ত্রীর নামে প্রকল্প চালু করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কখনই আত্মপ্রচারে বিশ্বাসী ছিলেন না এবং মুখ্যমন্ত্রীর নামে অতীতে কোনও প্রকল্পও করেননি। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের আমলে শুরু হওয়া প্রকল্পের নাম পাল্টে বর্তমান সময়ে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী যোজনা করে দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ করে দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার বিকেলের ওই লাইভ সেশনে রাজ্য সরকার ও বিজেপিকে আক্রমণ করার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অন্য দলে যোগ দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে। এছাড়া তাঁর নিজের বইয়ের রয়্যালটির টাকা আটকে রাখা হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বক্তব্যে উঠে আসে তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি প্রসঙ্গও।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সামলানো এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া উচিত। দেশজুড়ে বিভিন্ন বিভাজনের রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সবসময় সম্প্রীতির এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তৃণমূলনেত্রীর এই ফেসবুক লাইভ ও তাঁর মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।