আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি, টানা ১৩ দিনের অনশনের পর এবার সরাসরি মাঠে মুখ্যমন্ত্রী! কৌশলগতভাবে কেন এত জরুরি তৃণমূলের এই কর্মসূচি?

রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে মতুয়া সমাজের একাংশের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। তাঁদের মূল আশঙ্কা, এসআইআর-এর মাধ্যমে বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এই চরম উদ্বেগকেই সামনে রেখে আগামী ২৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার, মতুয়াগড়ে বৃহৎ মিছিল ও জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তর ২৪ পরগনার চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত বিশাল মিছিল শেষে বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কে এই সমাবেশ করার কথা তাঁর।

অনশনের পর মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি মাঠে নামার সিদ্ধান্ত
মতুয়াদের একাংশ ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন। গত মাসেই তাঁরা টানা ১৩ দিন অনশন চালিয়েছিলেন। শেষমেশ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে সেই অনশন প্রত্যাহার করেন মতুয়া নেতারা। রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া সমাজের এই অনশন এবং ক্ষোভের আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সরাসরি মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত বহু এলাকায় ভোটের সমীকরণ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসআইআর ইস্যুতে যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং সামনে আসছেন। তাঁর এই সফর ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেবে যে, তৃণমূল তাদের পাশে রয়েছে।

এর আগের দিন, অর্থাৎ সোমবার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলার নেতৃত্বদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। সেখানে এসআইআর-এর মাঠপর্যায়ের কাজ এবং উত্তরবঙ্গ ও মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনে চিঠি এবং তৃণমূলের রণনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। নাগরিকপঞ্জি ও এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তৃণমূল তা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে।

ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি চিঠিতে প্রক্রিয়াটিকে অপরিকল্পিত, বিপজ্জনক এবং আতঙ্ক সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করেছেন। বিএলওদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, অসংখ্য ভুল রেকর্ড এবং এক বিএলও-র মৃত্যুর প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেছেন।

আগামী মঙ্গলবারের এই মিছিলকে ঘিরে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফ্লেক্সে প্রচার শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর তৃণমূলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যা একদিকে ক্ষুব্ধ ভোটারদের মনোবল ফেরাবে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের সমালোচনা মোকাবিলা করবে।