‘আগে সাসপেন্ড করেছিলাম’!-গ্রেফতার KMC-র ইঞ্জিনিয়ার, ফিরহাদ কী বললেন?

কলকাতা পুরসভায় কর্মরত অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পার্থ চোঙদারকে কোটি কোটি টাকার অজানা উৎসের সম্পত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে রাজ্যের অপরাধ দমন শাখা (CID)। শুক্রবার সকালে দীর্ঘ তদন্তের পর তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পার্থ চোঙদারের আয় এবং সম্পত্তির মধ্যে বিশাল অমিল রয়েছে, যা দুর্নীতি ও বেআইনিভাবে সম্পত্তি অর্জনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

🏦 কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ ও লেনদেন
তদন্তে উঠে এসেছে পার্থ চোঙদার এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। সূত্রের খবর অনুযায়ী:

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: তাঁর নামে এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, গোল্ড বন্ড ও বিমা পলিসি পাওয়া গিয়েছে।

বিলাসবহুল সম্পত্তি: বোলপুরে একটি বিলাসবহুল বাংলো এবং কলকাতায় একাধিক ফ্ল্যাটের খোঁজ মিলেছে।

অর্থের উৎস: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পার্থ তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে কোটি টাকার লেনদেন করেছেন।

বিদেশ সফর ও বিনিয়োগ: অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারের বিদেশ সফরের রেকর্ড পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও, স্ত্রীর নামে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করার পাশাপাশি, নানান আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে তিনি টাকা স্থানান্তর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

🗣️ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য
দীর্ঘদিন ধরেই পার্থ চোঙদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। এই প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, তদন্ত শুরু হওয়ার পরই কলকাতা পুরসভা পার্থ চোঙদারকে সাসপেন্ড করেছিল।

মেয়র বলেন, “আমরা তাঁকে আগেই সাসপেন্ড করেছিলাম। বিষয়টি পুরসভার ভিজিল্যান্স বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় তা দুর্নীতি দমন শাখার (CID) হাতে তুলে দেওয়া হয়।”

মেয়র আরও জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতি তিন বছর অন্তর বদলির নীতি চালু করেছেন। তবে পুরসভায় কয়েক হাজার ইঞ্জিনিয়ার কর্মরত থাকায়, সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তথ্য না এলে ব্যক্তিগতভাবে জানা সম্ভব নয়।

২০২৩ সালেই কলকাতা পুরসভা দুর্নীতি দমন শাখার কাছে পার্থ চোঙদারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই দীর্ঘ তদন্তের পর শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, সরকারি পদে থেকে তিনি বেআইনি সম্পত্তি অর্জনের এক সুপরিকল্পিত জাল তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্পত্তির উৎস ও অর্থের লেনদেনের বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।