আগে ছিল ‘শাসকের আইন’, এখন ‘আইনের শাসন’! মহরমের সাফল্য নিয়ে বড় মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, বরং বুকফাটা শোক আর অকৃত্রিম শান্তির বার্তার মধ্য দিয়ে এবার পালিত হলো মহরম। প্রতিবারের মতো এবার মহরমের মিছিলে কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে পবিত্র আশুরার শোকযাত্রা। রাজ্যের এই পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক কঠোরতাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এবারের মহরম ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। শোকযাত্রার প্রথাগত আবেগের পাশাপাশি এবার সংযত ছিল প্রতিটি মিছিল। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ ছিল, মিছিলে কোনোভাবেই অস্ত্র প্রদর্শন করা চলবে না। সেই নির্দেশকে মান্যতা দিয়েই রাজ্যের সর্বত্র আয়োজিত হয়েছে শোক মিছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই মানুষ পালন করেছেন তাদের ধর্মীয় আচার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির এক বড় দিক তুলে ধরেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাজ্যে এখন আর কোনো নির্দিষ্ট ‘শাসকের আইন’ চলে না, বরং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রকৃত ‘আইনের শাসন’।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে রাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল, শাসকের ইচ্ছেই ছিল আইন। কিন্তু এখন মানুষ আইন মেনে চলে। আইন মেনে কোনো ধর্মীয় আচার বা শোভাযাত্রা করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই, বরং সবরকম সহযোগিতা করা হয়।” প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার ফলেই যে এবারের মহরম শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এক বড় সাফল্য।
অস্ত্রের ঝনঝনানি বা লাঠিখেলার বদলে এবারের মহরমে ছিল সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলার ছবি। অতীতে মহরমের মিছিলে অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে বহু বিতর্ক তৈরি হতো, কিন্তু এবার সেই প্রথা ভেঙে এক নজিরবিহীন শান্তির বাতাবরণ দেখা গেল। প্রশাসনের তরফে প্রতিটি এলাকায় পুলিশি পাহারা ছিল চোখে পড়ার মতো। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ছিল স্থানীয় প্রশাসন।
এই সফল আয়োজন প্রমাণ করে দিল যে, কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকলে যেকোনো ধর্মীয় আচারই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরোক্ষভাবে আগের সরকারের আমলের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে বুঝিয়ে দিলেন যে, রাজ্যে শান্তি বজায় রাখা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অস্ত্রহীন এই মহরম রাজ্যের নাগরিক সমাজকেও এক স্বস্তির বার্তা দিল। শৃঙ্খলাপরায়ণ এই মহরম বাংলার অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে এবারের মহরম শান্তি ও শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণের সাক্ষী হয়ে থাকল।