‘আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ভেনিজুয়েলায় আক্রমণ’! জেনেনিন কী প্ল্যান ট্রাম্পের?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনিজুয়েলার মধ্যেকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকার সরকারের চারজন শীর্ষ আধিকারিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী।
যদিও এই অভিযানের নির্দিষ্ট সময় ও প্রকৃতি এখনও গোপন রাখা হয়েছে, তবে চার আধিকারিকের পূর্বাভাসে স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দ্রুতই ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানতে প্রস্তুত।
কোভার্ট অপারেশনের ইঙ্গিত
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চারজন মার্কিন সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমেরিকা ‘কোভার্ট অপারেশন’ বা গোপন অভিযান চালাতে পারে। ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন সেনার উপস্থিতি ও সংখ্যা বৃদ্ধি এই পূর্বাভাসের সত্যতাকেই প্রতিষ্ঠা করছে। এরপরেই ট্রাম্পের বাহিনী অন্য পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে ড্রাগ ব্যবসার অভিযোগ
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-এর সরকার। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, মাদুরোর সরকার বেআইনি ড্রাগ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকায় ড্রাগের সরবরাহ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন। এর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, আমেরিকা এই পরিস্থিতিতে মাদুরো সরকারকে উপড়ে ফেলতে পারে। এই আশঙ্কা স্বীকার করে মাদুরো নিজেও দাবি করেছেন যে আমেরিকা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে, কিন্তু ভেনিজুয়েলার জনগণ ও সেনাবাহিনী এর তীব্র বিরোধিতা করবে।
আকাশপথে বিপদ সংকেত, বাতিল ফ্লাইট
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (US FAA) সকলের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। তাদের মতে, বর্তমানে ভেনিজুয়েলার আকাশপথ ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে। এই সতর্কতার পরই একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইটগুলি বাতিল করে দিয়েছে।
জঙ্গি গোষ্ঠীর মদতদাতা হিসেবে তকমা!
আসন্ন দিনগুলিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খবর অনুযায়ী, আমেরিকা ভেনিজুয়েলাকে জঙ্গি গোষ্ঠীর মদতদাতা হিসেবেও চিহ্নিত করতে পারে। এর পাশাপাশি মাদুরোর সম্পত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর আঘাত হানার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের রাস্তা খোলা রেখেছে। সব মিলিয়ে, এখন দেখার বিষয় এই আন্তর্জাতিক সঙ্কট কোন দিকে মোড় নেয়।