আক্রান্ত বিএলও-কে নিয়ে সরব শিক্ষক সংগঠন! কর্তৃপক্ষের চাপ প্রসঙ্গে কী বললেন চুঁচুড়ার মহকুমাশাসক?

হুগলির পাণ্ডুয়া বিধানসভা এলাকার বিডিও অফিসে ডেকে এনে একজন বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা ও হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিডিও অফিসের কর্মী তথা ইআরও-র বিরুদ্ধে অকারণে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন বিএলও সুমিতা মুখোপাধ্যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সুমিতা মুখোপাধ্যায়ের কান্নায় ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই তুমুল হইচই শুরু হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যজুড়ে এসআইআর-এর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) জন্য এন্যুমারেশন ফর্মের তথ্য বিএলও পোর্টালে আপলোড করার কাজ চলছে। পাণ্ডুয়া বিধানসভার ৪১ নম্বর বুথের বিএলও সুমিতা মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার তাঁকে বিডিও অফিসে ডাকা হয়। বিএলও পোর্টালে তথ্য আপলোডের নিরিখে তাঁর পারফরম্যান্স খারাপ বলে জানিয়ে ইআরও তাঁকে বিডিও দফতরে বসে নথি আপলোড করতে নির্দেশ দেন।

অসুস্থতা সত্ত্বেও অপমানজনক আচরণ

বিএলও সুমিতা মুখোপাধ্যায় জানান, বুধবার রাতে তাঁর পারফরম্যান্স ঠিক থাকলেও পরের দিন সকালে তাঁকে ডেকে রীতিমতো হেনস্তা করা হয়। তিনি অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজ করছেন জানালেও বিডিও দফতরের কর্মীরা অপমানজনক আচরণ করেন।

সুমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাকে বিডিও অফিস থেকে ডেকে পাঠান ইআরও। ৩০০ ডাটা এন্ট্রি করা সত্ত্বেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। সার্ভার ডাউন থাকার জন্য এমনিতেই কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার পর আমাকে সাড়ে এগারোটা থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত না-খেয়ে কাজ করতে হয়। আমি অসুস্থ বলার পরেও বাড়ি আসতে দেওয়া হচ্ছিল না।”

তিনি অভিযোগ করেন, “প্রায় রোজই সার্ভার ডাউন থাকে। তার পরেও আমি একা ৩০০-র মতো নথি আপলোড করেছি। সেদিন বাড়ি ফেরার পর আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। আমার সহকারি বিএলও আমাকে বাড়ি পৌঁছে না-দিলে রাস্তায় যে কোনো অঘটন ঘটতে পারত। সেই কারণে বাড়িতে ফিরে আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি। আমি খেতে পর্যন্ত পারছিলাম না। সেই ভিডিয়ো আপনারা দেখেছেন।”

বিএলও-দের উপর চাপ নিয়ে সরব পরিবার ও সংগঠন

সুমিতা মুখোপাধ্যায়ের স্বামী বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, সুমিতা সেদিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, “পোর্টালের সার্ভার ডাউন থাকার কারণে সমস্যার দায় চাপানো হচ্ছে বিএলও-দের উপরে। টার্গেট পূরণ করেও হেনস্তা করা হচ্ছে। এই চাপ সহ্য করতে না-পেরে অনেকে অসুস্থ হয়েছেন, মারাও গিয়েছেন।”

রাজ্যের শিক্ষক অ্যাসোসিয়েশনের ‘বিএলও ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চ’-এর কনভেনার অনিমেষ হালদার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সুমিতা মুখোপাধ্যায় অসুস্থ হয়ে ভেঙে পড়েন। গোটা রাজ্যজুড়ে বিএলও-দের উপর চাপ সৃষ্টি করে কাজ করানো হচ্ছে। তিনি পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ছাড়া পরিকল্পনাবিহীনভাবে কাজ করানোর তীব্র নিন্দা করে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা বলেছেন।

মহকুমাশাসকের প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি নিয়ে চুঁচুড়া সদরের মহকুমাশাসক অয়ন নাথ বলেন, এসআইআর-এর কাজে ওই বিএলও-র পারফরম্যান্স জেলার নিরিখে অনেকটাই কম ছিল। তাই কাজের সুবিধার জন্যই তাঁকে বিডিও অফিসে ডাকা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, “সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তিনি কোনও অসুস্থ ছিলেন না। যদি, সত্যি-সত্যি শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”