আকাশে ভারত-তৈরি ‘স্মার্ট’ হামলা! জিপিএস ছাড়াই লক্ষ্যভেদে সক্ষম নতুন ড্রোন, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার এখন রণতরী?

ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) যুদ্ধের ময়দানে এক বিশাল বিপ্লব আনতে চলেছে। এবার আর শুধু যুদ্ধবিমান নয়, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বা সি-২৯৫-এর মতো বিশালকার মালবাহী বিমানগুলোও আকাশ থেকে সরাসরি আক্রমণ চালাতে পারবে। সৌজন্যে— অত্যাধুনিক এয়ার-ড্রপড ক্যানিস্টারাইজড সোয়ার্ম (ADC-S) প্রযুক্তি।

কী এই ADC-S সিস্টেম? সহজ কথায় বলতে গেলে, এই সিস্টেমে মালবাহী বিমান থেকে একটি বিশেষ কন্টেইনার বা ক্যানিস্টার ফেলা হবে। মাঝ আকাশে ক্যানিস্টারটি খোলার সাথে সাথে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে ৬ থেকে ৮টি স্মার্ট কামিকাজে ড্রোন। এই ড্রোনগুলো ঝাঁক বেঁধে (Swarm Attack) শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।

কেন এটি গেম-চেঞ্জার?

  • ভয়ংকর পাল্লা: বিমানটি শত্রুর রাডার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে ক্যানিস্টার ড্রপ করবে। সেখান থেকে ড্রোনগুলো ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শত্রুর ঘাঁটিতে আঘাত হানবে।

  • অব্যর্থ নিশানা: ড্রোনগুলো ঘণ্টায় ৩৫০-৪০০ কিমি বেগে উড়তে সক্ষম এবং মাত্র ৫ মিটারের ব্যবধানে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, জিপিএস জ্যাম করে দিলেও এই ড্রোনগুলোকে থামানো যাবে না।

  • সাশ্রয়ী ও নিরাপদ: কোটি কোটি টাকার ক্রুজ মিসাইল বা দামী যুদ্ধবিমান পাঠানোর বদলে এই সাশ্রয়ী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এতে পাইলট ও মূল বিমান শত্রুর সীমানার অনেক বাইরে নিরাপদ থাকবে।

শত্রুর রাডার হবে বিভ্রান্ত: যখন কয়েক ডজন ড্রোন একসাথে বিভিন্ন দিক থেকে ধেয়ে আসবে, তখন শত্রুর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে সেগুলোকে ঠেকানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।

আত্মনির্ভর ভারত ও ভবিষ্যৎ: ‘মেক-২’ প্রকল্পের অধীনে এই প্রযুক্তিতে অন্তত ৫০% দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। আগামী ৩০ এপ্রিল, ২০২৬-এর মধ্যে এই প্রকল্পের আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ হবে। এর ফলে ভারতীয় স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সামনে খুলে যাবে নতুন দিগন্ত।

বিশেষজ্ঞের রায়: যুদ্ধবিমান মোতায়েন না করেই শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে নিখুঁত হামলা চালানোর এই ক্ষমতা ভারতীয় বিমান বাহিনীকে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি শক্তিশালী দেশের তালিকায় প্রথম সারিতে নিয়ে আসবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy