আইপ্যাক কি এবার তৃণমূলের অংশ? গ্রেপ্তার ও ২০ দিনের ছুটির জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত মহড়া শুরুর আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। সংস্থার এক ডিরেক্টর গ্রেপ্তার হওয়ার পর খবর রটেছে যে, আপাতত ২০ দিনের জন্য কর্মীদের ছুটিতে পাঠিয়ে বাংলায় কাজ বন্ধ রাখছে তারা। কিন্তু এই ‘ব্যাকফুট’ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই রবিবার তারকেশ্বরের সভা থেকে রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

“ভয় দেখালে ওরা আমার দলে যোগ দেবে”

আইপ্যাকের নাম সরাসরি না নিলেও মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সংস্থার ওপর কোনো আঘাত তিনি সহ্য করবেন না। তাঁর কথায়:

  • সরাসরি যোগদান: “আমাদের কাজ যারা করে, তাদের বলা হচ্ছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও। কেন? ওদের ভয় দেখালে ওরা আমার দলের সঙ্গে যুক্ত হবে। আমরা ওদের চাকরি দেব।”

  • আইপ্যাক কি মিশে যাচ্ছে? মমতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি আইপ্যাক বাংলায় কাজ করতে আইনি বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে, তবে সংস্থার কর্মীদের সরাসরি তৃণমূলের আইটি বা সোশ্যাল মিডিয়া সেলে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হতে পারে।

অভিষেকের সঙ্গে আলোচনা ও বিজেপিকে তোপ

মমতা জানান, এই বিষয়ে সকালে তাঁর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ কথা হয়েছে। এর পরেই তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন:

  • এজেন্সির রাজনীতি: “ভোটের সময় রোজ ইডি রেড করছে কেন? পুলিশ আর জেলাশাসকদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”

  • বাইরে থেকে আসা ‘নেতা’: মোদী-শাহকে লক্ষ্য করে তাঁর কটাক্ষ, “সামনে মহিলা আর পিছনে ময়লা! হাজার বার সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল আটকাব।”

আইপ্যাক-এর পরিস্থিতি আসলে কী?

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আইপ্যাকের ডিরেক্টর গ্রেপ্তার হওয়ার পর কর্মীদের আপাতত ২০ দিন ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। আগামী ১১ মে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। যদিও আইপ্যাকের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। ডেকান হেরাল্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় এজেন্সির লাগাতার চাপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

মমতার নজরে ‘আসল নেতা’

বিজেপি নেতৃত্বের ভাষণের পাল্টা দিয়ে মমতা মনে করিয়ে দেন, বাংলা কাদের নেতা মানে। রামমোহন, বিদ্যাসাগর থেকে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল—বাংলার সংস্কৃতিই তৃণমূলের চালিকাশক্তি বলে দাবি করেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy