আইন কলেজে ‘থ্রেট কালচার’, ছাত্রীদের মারধর, উত্তপ্ত কান্দির কলেজ ক্যাম্পাস

দক্ষিণ কলকাতার আইন কলেজের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মুর্শিদাবাদে আইনের পড়ুয়াদের ভয় দেখানো এবং মারধরের অভিযোগ উঠল। জেলার কান্দি রাজা বীরেন্দ্র চন্দ্র ‘ল’ কলেজে ‘থ্রেট কালচার’ অর্থাৎ ভয় দেখানোর অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলেজের দখল কে নেবে, এই নিয়ে বিবাদ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, তা সংঘর্ষের আকার নেয় এবং দুই কলেজ ছাত্রী আহত হন।

পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করতে এসে মারধর

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১১ই জুলাই) দুপুরে কলেজ চত্বরেই। কান্দি রাজা বীরেন্দ্র চন্দ্র ‘ল’ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তৃণা মজুমদার সেদিন পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করতে কলেজে এসেছিলেন। অভিযোগ, তিনি বসে থাকাকালীন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রীরা এসে তাকে মারধর করে। তৃণার অভিযোগের তির সোমা শীল নামে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী এবং তার একজন বন্ধুর দিকে।

আক্রান্ত তৃণা দাবি করেছেন, কান্দির রাজা বীরেন্দ্র চন্দ্র কলেজ অফ ল-তে বেশ কিছুদিন ধরেই র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটছে। আজকের ঘটনা তারই প্রতিবাদ করার ফল। তার অভিযোগ, কলেজের ‘দখল’ কে নেবে, সেই বিষয় নিয়েই তাকে মারধর করা হয়েছে।

পাল্টা অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

তবে, অভিযুক্ত তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, টিফিন করতে যাওয়ার সময় তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং তার প্রতিবাদ করলেই বিনা কারণে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে তারা কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে যান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিস্মিতা নাগ। তিনি জানান, “আমরা ঘটনার কথা শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা কলেজে ঘটে থাকলে সেটা অবাঞ্ছনীয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আমরা চাইব পুলিশ সঠিক তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করবে।”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ‘থ্রেট কালচার’ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা শিক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী এবং দোষীরা চিহ্নিত হয় কিনা।