অসমের বুকে বিরল দৃশ্য, জীবন্ত অবস্থায় উন্মোচন করা মূর্তির সামনেই সম্পন্ন হলো জুবিন গর্গের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান!

যেই মূর্তি তিনি নিজ হাতে উন্মোচন করে গিয়েছিলেন, আজ সেই প্রতিমূর্তির সামনেই সম্পন্ন হলো অসমের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের প্রথম শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। সোমবার তিনিসুকিয়া জেলার ডিগবৈ-এর ডিব্রু নদীর পারে নাজিরাটিংয়ে জুবিনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিমূর্তিস্থলে এই বিরল ও আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন প্রায় তিন হাজারেরও বেশি অসমবাসী।
জীবদ্দশায় পাওয়া ‘সেরা সম্মান’
উল্লেখ্য, অসমীয়া সঙ্গীতের এই তারকা মৃত্যুর আগেই তাঁর এই মূর্তি উন্মোচন করে গিয়েছিলেন। জুবিন গর্গ ২০১৯ সালে প্রয়াত হলেও তাঁর মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি নাজিরাটিং তামুলি পর্যটন উৎসবে জুবিন গর্গ নিজে এসে তাঁর প্রতিমূর্তি উন্মোচন করেছিলেন এবং এটিকে নিজের জীবনের ‘সেরা সম্মান’ বলে ঘোষণা করেন। আজ সেই মূর্তির সামনে প্রিয় শিল্পীর স্মৃতিতে বিভোর হয়ে শোকস্তব্ধ অনুরাগীরা।
এদিনের অনুষ্ঠানে সকালে প্রতিমূর্তির সামনে ধূপ-মোমবাতি জ্বেলে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান মূর্তি নির্মাণের সমস্ত ব্যয় বহন করা ডিগবৈয়ের বিধায়ক সুরেন ফুকন। গুয়াহাটির ভাস্কর্য শিল্পী দিগন্ত মাধব গোস্বামী, যিনি এই মূর্তিটি নির্মাণ করেছেন, তিনিও এদিন উপস্থিত ছিলেন এবং প্রিয় মানুষের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, মূর্তি তৈরির সময় গায়ক বারবার নিজে এসে তদারকি করে পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন।
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একত্রে থাকার বার্তাই জুবিনের প্রতি ভালোবাসা
বিধায়ক সুরেন ফুকন জুবিনের আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, “আমরা কামনা করি তিনি আমাদের মাঝে চিরজীবী থাকুন এবং অমরত্ব লাভ করুন।” তিনি জুবিনকে তাঁর খুব কাছের শিল্পী এবং ভালো বন্ধু উল্লেখ করে বলেন, তাঁর আদর্শগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন অসমবাসীর মনে।
ফুকন আরও বলেন, “তিনি গানের মাধ্যমে বারবার নানা বার্তা সমাজে পৌঁছে দিয়েছেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি সকলকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। সবরকম ভেদাভেদ ভুলে ভবিষ্যতেও এই রকম একত্রে থাকাই প্রমাণ করবে জুবিনের প্রতি অসমবাসীর ভালোবাসা।”
এদিনের অনুষ্ঠানে সঙ্গীতশিল্পী মহেন্দ্র হাজরিকা, রাজ্যসভার সাংসদ রমেশ্বর তেলি সহ বহু শিল্পী ও অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন। সকলে মিলে একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন জুবিন গর্গের জনপ্রিয় গান ‘মায়াবিনী রাতির বুকে’, যা শোকের আবহে এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য হয়ে ওঠে।