অষ্টম পে কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি তুঙ্গে, ৫০ লক্ষ কর্মীর ভাগ্যে বড় বদল আনছে সরকার!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের ঘোষণা ছিল চলতি বছরের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। দেশজুড়ে এখন এই নতুন কমিশন কার্যকর হওয়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে কমিশন এখন দেশব্যাপী কর্মচারী সংগঠন এবং পেনশনভোগী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে কর্মীদের মূল বেতন কাঠামো, ভাতা এবং অবসরপ্রাপ্তদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মতো একাধিক জ্বলন্ত সমস্যা ও দাবিদাওয়া কমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে পেশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও কমিশন কর্মীদের মতামত গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আঞ্চলিক আলোচনাগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কর্মচারীদের সরাসরি প্রতিক্রিয়াই হবে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের মূল ভিত্তি। কমিশন এখন দেশজুড়ে সংগৃহীত সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত ও সুসংহত রিপোর্ট তৈরির কাজে ব্যস্ত। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, কমিশন প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা আলাদা রিপোর্ট প্রস্তুত করতে পারে, যা পরবর্তীতে একত্রিত করে একটি চূড়ান্ত নথিতে পরিণত করা হবে। ২০২৭ সালের মধ্যেই এই চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই নতুন বেতন কমিশনের সুবিধা পেতে চলেছেন দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ ১৪ হাজার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী। তাদের প্রত্যেকের জীবনেই এই পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নিয়ে। সপ্তম বেতন কমিশনের সময় এই হার ছিল ২.৫৭। অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হতে চলেছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকার কোনো স্পষ্ট ঘোষণা করেনি। কর্মী সংগঠনগুলির আশা, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সপ্তম কমিশনের তুলনায় অনেকটাই বেশি হবে। এখন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।