শুটিংয়ের উঠতি তারকা দময়ন্তীর নিখোঁজ রহস্য, বাড়ি ছাড়ার আগের রাতের ডায়েরিতে কী লিখেছিলেন কিশোরী?

ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভার ঝলক আর বাড়িতে মেধাবী ছাত্রীর পরিচয়—এই দুই সত্ত্বার আড়ালেই হঠাৎ হারিয়ে গেল হাওড়ার দশম শ্রেণির ছাত্রী ও উদীয়মান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন। অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে টানা অনুশীলন আর জাতীয় দলের ট্রায়ালে ব্যস্ত এই কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়া এলাকায়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশের তদন্তে এখনও মেলেনি কোনো সূত্র।
দময়ন্তীর দিনলিপি বা ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল দীর্ঘদিনের। মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াইয়ের কথাও সেখানে উঠে আসত, কিন্তু সেই অবসাদকে জয় করার উপায়ও সে নিজেই লিখে রাখত তার পাতায়। বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানান, ঘটনার আগের দিনও দময়ন্তী ডায়েরি লিখেছিল। নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে বাবার কাছে পড়াশোনাও করেছে সে। ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রি-স্টেট প্রেসিডেন্ট কাপে তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল, যার জন্য সে কঠোর অনুশীলনও করেছিল। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়েনি বাবা-মা বা প্রশিক্ষক জয়দীপ কর্মকারের।
সকাল ৯টা নাগাদ দুধ কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় দময়ন্তী। সেই যে গেল, আর ফেরেনি। কিছুক্ষণ পর বাড়ির লোকেরা খোঁজ শুরু করলে দেখা যায়, নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সে বাড়িতেই রেখে গেছে। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দময়ন্তী কোথায় গেল, তার কিছুটা আঁচ পাওয়া যায় সিসিটিভি ফুটেজে। সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট নাগাদ তাকে হাওড়া স্টেশন চত্বরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর সকাল ১০টা নাগাদ স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তাকে শেষবার দেখা যায়। এরপরই হাওড়া স্টেশনের জনস্রোতে হারিয়ে যায় এই কিশোরী।
বাবা-মায়ের দাবি, পরিবারের সাথে দময়ন্তীর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর ছিল। পড়াশোনা থেকে খেলাধুলা—সব বিষয়েই সে বাবার সাথে আলোচনা করত। পরিবার সূত্রে খবর, দময়ন্তী সেন্ট জনস ডায়োসেসনের ছাত্রী এবং অত্যন্ত মেধাবী। তার অ্যাথলেটিক ক্যারিয়ার এখন মধ্যগগনে। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই এই নিরুদ্দেশ হওয়া যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং বিভিন্ন স্টেশনে তথ্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে যাওয়ার ফলে দময়ন্তীর সাথে যোগাযোগ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে তদন্তকারীদের জন্য। কান্নাভেজা কণ্ঠে বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন বার বার বলছেন, আগের রাতেও যে মেয়েটি স্বাভাবিক ছিল, সকালের সেই সামান্য সময়ে এমন কী ঘটল যে তাকে এমন কঠিন পথ বেছে নিতে হলো? পুরো পরিবার এখন অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছে তাদের মেয়ের ফেরার। দময়ন্তীর এই রহস্যময় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এখন হাওড়ার প্রতিটি মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।