অশান্ত পদ্মাপাড়, জলপথে কড়া পাহারা দিল্লির! হলদিয়ায় বসছে নৌসেনার ‘ফাস্ট অ্যাটাক’ ইউনিট

বাংলাদেশে ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিরতা, মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং গণবিক্ষোভের জেরে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই আবহে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের টালমাটাল পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক জলসীমানায় কড়া নজরদারি রাখতে এক বড়সড় কৌশলগত পদক্ষেপ নিল নয়াদিল্লি। কলকাতার অদূরে হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারতীয় নৌসেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ (DAC) ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে।

নৌসেনা সূত্রে খবর, এই ঘাঁটিটি মূলত ‘কুইক রেসপন্স’ বা দ্রুত সামরিক অভিযানের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে। হলদিয়ায় মোতায়েন থাকবে ১০০ টন ওজনের একাধিক ‘ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’, যা ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিবেগে জলপথে শত্রুর ওপর আঘাত হানতে সক্ষম। প্রতিটি রণতরীতে থাকবে ভারী মেশিনগান সহ আধুনিক মারণাস্ত্র। প্রায় ১০০ জন নৌসেনা আধিকারিক ও জওয়ান এই ঘাঁটির দায়িত্ব সামলাবেন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জলসীমায় চিন ও পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা এবং চট্টগ্রামে চিনা সহায়তায় সাবমেরিন ঘাঁটি তৈরি ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ঢাকার সঙ্গে বেজিং ও ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা রুখতেই হলদিয়াকে ভারতের ‘প্রিভেন্টিভ ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি’র মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা ও বঙ্গোপসাগরে ভারতের এই শক্তিশালী উপস্থিতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।