“অর্ধেক বিল দিলেই বাকি অর্ধেক মাফ?”-বিদ্যুৎ বিল আদায়ে নজিরবিহীন ছাড়ের ঘোষণা!

একসময় মাওবাদী কার্যকলাপের কারণে অশান্ত জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া গেলেও, বিল আদায় করা কার্যত অসম্ভব ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বকেয়া বিলের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩০ কোটি টাকায়! এই বিপুল অঙ্কের অনাদায়ী বিল আদায়ে এবার নজিরবিহীন ছাড়ের ঘোষণা করেছে ঝাড়গ্রাম জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা।
সংস্থার আশা, এই ছাড়ের মাধ্যমে বকেয়া বিলের কিছুটা অন্তত আদায় করা সম্ভব হবে, যদিও বছর আটেক আগে একই পথে হেঁটেও বিশেষ সাড়া মেলেনি।
ঝাড়গ্রাম জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রায় দু’লক্ষ গ্রাহকের কাছে বিল বকেয়া রয়েছে। এই বিল আদায়ে এখন গ্রামে গ্রামে জোর কদমে প্রচার চালানো হচ্ছে।
- জরিমানা মকুব: ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের আগে থেকে যাঁদের বিল বকেয়া, তাঁদের ক্ষেত্রে জরিমানা সম্পূর্ণ মকুব করা হচ্ছে।
- বিলের অর্ধেক ছাড়: গ্রাহকরা যদি বকেয়া বিলের অর্ধেক টাকা জমা করেন, তবে বাকি অর্ধেকও ছাড় দেওয়া হবে।
বিল জমা দেওয়ার পরে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট অফিসে একটি আবেদন করতে হচ্ছে, যেখানে বিল পরিশোধ না করার কারণ জানাতে হচ্ছে। যেমন ঝাড়গ্রাম ব্লকের কন্যাডোবা গ্রামের বাসিন্দা কবিতা পাল বলেন, “এক লক্ষ টাকার উপরে বিল বকেয়া ছিল। ৩৭ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। আবেদনে জানিয়েছি, মাওবাদী কার্যকলাপের কারণে সময়ে বিল দিতে পারিনি।”
বিল দিচ্ছে না শিল্প সংস্থা ও সরকারি দপ্তরও!
কেবল গ্রামীণ গ্রাহকরাই নন, সংস্থার মাথাব্যথার কারণ জেলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শিল্প সংস্থা, যাদের কাছেও কয়েক কোটি টাকার বিল বকেয়া। এমনকি, জেলার বিভিন্ন প্রশাসনের দপ্তরের কাছেও কোটি টাকার বিল বকেয়া যা বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ।
সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার প্রদীপ সামন্ত জানিয়েছেন, “ডোমেস্টিক ও এগ্রিকালচারাল ক্ষেত্রে বহু গ্রাহকের বিল বকেয়া। বিল আদায়ে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যে সব বাণিজ্যিক ও শিল্প সংস্থা দীর্ঘদিন বিল দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।” দীর্ঘদিন বিল না দিলে সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
‘হাসির আলো’ প্রকল্পের দুর্বলতা
আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের জন্য চালু হওয়া ‘হাসির আলো’ প্রকল্পের আওতায় ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু দপ্তরের দাবি, বহু পরিবার এখনও এই সীমা সম্পর্কে সচেতন নয়। নির্ধারিত সীমার সামান্য বেশি ব্যবহার করেই অনেকেই বিলের আওতায় পড়ে যাচ্ছেন, ফলে বকেয়ার সমস্যা আরও বাড়ছে।
বর্তমানে জেলার ২ লক্ষ ৮০ হাজার গ্রাহককে পরিষেবা দেওয়ার জন্য এবং বিল আদায়ের জন্য ৩০টি এজেন্সি নিযুক্ত করা হয়েছে। এত বিশাল ছাড়ের পরেও বিপুল অঙ্কের বকেয়া আদায় করা সম্ভব হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।