অপারেশন সিঁদুরে শিক্ষা হয়নি! মাসুদের বোন সাদিয়া আজহারের নেতৃত্বে এবার মহিলাদের নিয়োগ করে অনলাইনে সন্ত্রাস ছড়াবে জইশ

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় সেনার হাতে নাস্তানাবুদ হওয়ার পরেও শিক্ষা হয়নি পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM)। এবার ভারত বিরোধী সন্ত্রাসে মহিলাদের কাজে লাগাতে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে জইশ-প্রধান মাসুদ আজহার। বুধবার জইশ-এর প্রমিলা বাহিনী ‘জামাত-উল-মোনিনাত’ (Jamaat-ul-Mominaat) তৈরির ঘোষণা করেছেন মাসুদ আজহার।
মাসুদের বোনের নেতৃত্বে প্রমিলা বাহিনী
জানা গিয়েছে, বাহাওয়ালপুরের মরকজ-উসমান-ও-আলিতে মহিলাদের জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ ও ট্রেনিং দেওয়ার কাজ চলছে। সূত্রের খবর, এই মহিলা শাখার নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘ দ্বারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। সাদিয়ার স্বামী ইউসুফ আজহার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সেনার হাতে খতম হয়েছিল।
এই প্রমিলা বাহিনীতে জইশ কম্যান্ডারদের স্ত্রীদের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের নিয়োগ করা শুরু হয়েছে বাহাওয়ালপুর, করাচি, মুজাফফরাবাদ এবং জম্মু-কাশ্মীরের পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রগুলিতে। সূত্রমতে, মূলত মহিলাদের সুইসাইড বোম্বার হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে জইশ। উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত লস্কর-ই-তইবা এবং জইশ-ই-মহম্মদ তাদের সংগঠন থেকে মহিলাদের দূরে রাখত।
অনলাইনে সন্ত্রাস ছড়ানোর ছক
জইশ-ই-মহম্মদের এই মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ এবার জম্মু-কাশ্মীরে নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে চাইছে। এরপর তাদের লক্ষ্য হলো উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারত। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ধর্মের নামে নারীদের প্রলুব্ধ করে জঙ্গিতে পরিণত করতে চায় এই জঙ্গি সংগঠন।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মূলত ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষিত এবং শহুরে মহিলাদের টার্গেট করে তাঁদের ব্যবহার করার ছক কষছে জইশ। জইশ-ই-মহম্মদের বিজ্ঞপ্তিতে মক্কা ও মদিনার ছবি রয়েছে, যা ধর্মীয় আবেগকে লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অপারেশন সিঁদুরে বড় ক্ষতি হয়েছিল জইশের
এর আগে মাসুদ আজহার দাবি করেছিলেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে তার পরিবারের ১০ জন সদস্য এবং তার চার সহযোগী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তার বড় বোন, তার স্বামী, এক ভাগ্নে এবং তার স্ত্রী-সহ বর্ধিত পরিবারের পাঁচ সন্তান ছিল। ভারতীয় সেনা মাসুদ আজহারের পারিবারিক এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্কে বড় আঘাত হানার পরেও সন্ত্রাস ছড়ানোর এই নতুন প্রচেষ্টা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।