পারেশন সিঁদুর-এর পর বায়ুসেনার নীরব প্রতিশোধ! মেনুতে পাক সেনাঘাঁটির নাম, ভাইরাল মেনুকার্ডে কী বার্তা দিল ভারত?

ভারতীয় বায়ুসেনার ৯৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজের মেনুকার্ড এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মেনুকার্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ‘কটাক্ষ’ করার এমন অভিনব নজির কূটনৈতিক মহলে সাড়া ফেলেছে।

প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের মতে, বায়ুসেনার এই মেনু স্মরণ করিয়ে দেয়, ভারত কোনও আক্রমণ ভোলে না, প্রয়োজনে জবাব দেয় নিজের মতো করে। “ইনফ্যালিবল, ইম্পারভিয়াস অ্যান্ড প্রিসাইস” (আমরা নির্ভুল, অদম্য ও অনমনীয়) স্লোগানের নিচে সাজানো এই মেনু সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।

মেনুতে পাক সেনাঘাঁটির নাম
মেনুর শুরুতেই রয়েছে ‘রাওয়ালপিন্ডি চিকেন টিক্কা মশলা’, আর একেবারে শেষে ডেজার্টে ছিল ‘মুরিদকে মিষ্টি পান’। গতকাল, ৮ অক্টোবরের এই মেনুকার্ডটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ভাইরাল।

আসলে, এই মেনুতে সেই সব জায়গার নামের সঙ্গে ভারতীয় খাবারের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলি ভারতের সেনা পহেলগাঁও হামলার প্রত্যাঘাতের সময় পাকিস্তানে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করে দিয়ে এসেছে।

মেনুতে ব্যবহৃত বিতর্কিত খাবারের নামগুলি:

‘রাফিকি রাড়া মটন’

‘ভোলারি পনির মেথি মালাই’

‘সারগোদা ডাল মাখানি’

‘জ্যাকোবাবাদ মেওয়া পোলাও’

‘ভাওয়ালপুর নান’

অপারেশন সিঁদুর-এ পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করার পর এবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভারতকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করল ভারতের বায়ুসেনা।

স্যাটেলাইট ইমেজ ও পাকিস্তানের মিথ্যা দাবি
ভারত এই ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ হিসেবে রীতিমতো স্যাটেলাইট ইমেজ দেখিয়েছিল, যা দেশের বিদেশমন্ত্রক, সেনা প্রধান এবং বায়ুসেনা প্রধানরা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান বারবার ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংসের যে দাবি করেছিল, তার স্বপক্ষে তারা আজ পর্যন্ত একটাও প্রমাণ দেখাতে পারেনি, যা আন্তর্জাতিক মহলে চরম হাস্যস্পদ হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও পহেলগাঁও হামলার পর দেশ জুড়ে যে মনোভাব তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে এই মেনুটি প্রতিশোধ ও আত্মগর্বের এক নীরব প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। ৯৩ বছরে এসে ভারতীয় বায়ুসেনার বার্তা আরও স্পষ্ট—তারা এখন আরও বেশি নির্ভুল, অদম্য ও অনমনীয়।