অন্য জাতের প্রেম! মৃত্যুর পরেও মিলল না ঠাঁই, যুবতীর দেহ নিতে অস্বীকার পরিবারের

জাতি, ধর্ম এবং সামাজিক ভেদাভেদের কারণে ওডিশায় পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এল। একটি ঘটনায় প্রেমিকের সঙ্গে আত্মঘাতী হওয়ার পর অন্য জাতের প্রেমিকের পরিবারই শেষকৃত্য করল যুবতীর। অন্য ঘটনায়, ভিন ধর্মে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ ব্রাত্য হয়ে থাকা এক ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিতে এগিয়ে এলেন না গ্রামের কোনো লোক।

১. মৃত্যুর পরেও জাতিগত প্রত্যাখ্যান: বারগড়

ওডিশার বারগড় জেলার বাগারতি টিকিরা এলাকার পিঙ্কি বাগারতি নামের এক মহিলার সঙ্গে আট্টাবিরার কুমেলসিংহ গ্রামের হিমাংশু বুহে নামের অন্য জাতের এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। পিঙ্কির আগেই বিয়ে হয়েছিল এবং স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি চার সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন।

পিঙ্কি ও হিমাংশুর এই সম্পর্ক তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন মেনে নেননি। দিন কয়েক আগে তাঁরা পালিয়েও যান। শুক্রবার তাঁরা দুজনেই একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আত্মঘাতী হন।

অমানবিকতা: জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে পিঙ্কির পরিবারের লোকজন তাঁর দেহ নিতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ, অন্য জাতের পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই পরিবার দেহ নিতে রাজি হয়নি। এরপর হিমাংশুর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে গ্রামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পিঙ্কির শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।

২. ভিন ধর্মে বিয়ের ‘শাস্তি’: কালাহান্ডি

ওডিশারই কালাহান্ডি জেলার লাঞ্জিগড় এলাকার প্রধানিপাড়া গ্রামে ঘটেছে দ্বিতীয় মর্মান্তিক ঘটনাটি। সেখানকার বাসিন্দা মহেন্দ্রে দালাই নামের এক ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টি করতে গ্রামের কোনো লোকজনই এগিয়ে আসেননি।

কারণ: মহেন্দ্রের বাবা ভিন ধর্মের এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। এই কারণেই গ্রামের বাসিন্দারা মহেন্দ্রেকে ব্রাত্য করে রেখেছিলেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গত ১৫ বছর ধরে মহেন্দ্র একাই ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর দেহ কয়েক ঘণ্টা ধরে পড়ে ছিল। পরে তাঁর তিন মহিলা আত্মীয় এবং দূর সম্পর্কের কাকা তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত এমন অমানবিক ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কালাহান্ডির জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।