উৎসবের মুখে বিষাক্ত মিষ্টির ফাঁদ! দোকান থেকে রসগোল্লা কেনার আগে এই ৫টি পরীক্ষা অবশ্যই করুন

উৎসবের মরসুম মানেই মিষ্টিমুখের ধুম। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠে একদল অসাধু চক্র। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে প্রায় ৪৫০০ কেজি ভেজাল রসগোল্লা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দোকান থেকে কেনা মিষ্টির বিশুদ্ধতা যাচাই করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু সচেতন হলেই আপনি ঘরে বসে পরীক্ষা করে নিতে পারেন আপনার কেনা রসগোল্লাটি কতটা নিরাপদ।
রসগোল্লা আসল না নকল, তা বোঝার সবচেয়ে প্রাথমিক উপায় হলো ‘স্পঞ্জ টেস্ট’। মিষ্টিটি হাত দিয়ে আলতো চেপে ভেতরের সমস্ত রস বের করে দিন। যদি মিষ্টিটি কিছুক্ষণ পর নিজে থেকেই তার পূর্বের গোল আকারে ফিরে আসে, তবে সেটি খাঁটি। কিন্তু চাপ দেওয়ার পর যদি সেটি ভেঙে যায় বা চুপসে থাকে, তবে নিশ্চিত থাকুন তাতে ভেজালের ছোঁয়া রয়েছে।
মিষ্টির রঙ দেখেও এর গুণমান বোঝা সম্ভব। খাঁটি ছানার তৈরি রসগোল্লার রঙ সাধারণত হালকা দুধ-সাদা বা মৃদু ক্রিমের মতো হয়। কিন্তু যদি দেখেন রসগোল্লাটি অস্বাভাবিক চকচকে সাদা বা অতিরিক্ত হলদেটে, তবে বুঝবেন তাতে ক্ষতিকারক ব্লিচিং এজেন্ট বা কৃত্রিম কেমিক্যাল মেশানো হয়েছে।
স্টার্চ বা ময়দার ভেজাল আছে কি না, তা বুঝতে ‘আয়োডিন টেস্ট’ সবচেয়ে কার্যকর। মিষ্টির একটি ছোট অংশ সামান্য জলে ফুটিয়ে নিন। এরপর সেই জলে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন দ্রবণ মেশান। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যদি জলটি গাঢ় নীল বা কালো বর্ণ ধারণ করে, তবে বুঝে নিতে হবে মিষ্টিতে স্টার্চ বা ময়দার ভেজাল মেশানো হয়েছে।
জলের পরীক্ষার মাধ্যমেও খুব সহজে ভেজাল মিষ্টি শনাক্ত করা যায়। একটি কাচের গ্লাসে জল নিয়ে তাতে রসগোল্লার টুকরো ফেলে দিন। খাঁটি রসগোল্লা জলে ধীরে ভাসবে এবং তার গঠন অটুট থাকবে। কিন্তু ভেজাল রসগোল্লা জলে পড়ামাত্রই নরম হয়ে ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।
এছাড়া স্পর্শ পরীক্ষা করেও সত্যতা যাচাই করা যায়। খাঁটি রসগোল্লার বাইরের স্তর হালকা ও স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু কৃত্রিম উপাদানে তৈরি মিষ্টির উপরিভাগ অতিরিক্ত আঠালো হয়। ঘন চিনির প্রলেপ ও কেমিক্যাল মেশানো সিরাপের কারণে নকল রসগোল্লা হাতে ধরলে আঙুল চটচট করে। পাশাপাশি, আসল রসগোল্লায় তাজা দুধ ও এলাচের মিষ্টি সুবাস থাকে। মুখে দিয়ে যদি অতিরিক্ত রাসায়নিক ঝাঁজ বা অস্বস্তিকর কৃত্রিম গন্ধ পান, তবে তা একেবারেই বর্জন করুন।
মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ভেজাল মিষ্টি সেবন পেটের মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তাই উৎসবের কেনাকাটায় রাস্তার ধারের বা অপরিচিত দোকান এড়িয়ে নামী ও বিশ্বাসযোগ্য দোকান থেকেই মিষ্টি কিনুন। মিষ্টি খাওয়ার আগে এই সাধারণ পরীক্ষাগুলো মেনে চললে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং মনের আনন্দে উৎসবের রসগোল্লা উপভোগ করুন।