পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে রাজ্যের যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ শুরুর পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন দানা বেঁধেছিল—আবেদনপত্রের তথ্যে সামান্য ভুল থাকলে বা সব তথ্য নির্ভুলভাবে দিতে না পারলে কি সেই টাকা পাওয়া যাবে না? এই বিষয়ে নবান্ন ও সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ আপডেট উঠে এসেছে, যা লক্ষ লক্ষ মহিলার দুশ্চিন্তা দূর করবে।
নবান্ন সূত্রে পাওয়া সবথেকে বড় সুখবরটি হলো—যাঁরা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের জন্য আবেদনের কোনো জটিলতাই নেই। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই মহিলাদের সমস্ত তথ্য বা ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন পোর্টালে স্থানান্তরিত বা মাইগ্রেট (Migrate) করা হচ্ছে। ফলে তাঁদের নতুন করে আর কোনো ফর্ম ফিলাপ করতে হবে না বা নতুন কোনো নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, নতুন কোনো তথ্য না দিলেও তাঁরা সরাসরি ৩,০০০ টাকার সুবিধা পাবেন।
নতুন আবেদনকারীদের জন্য সরকার আবেদনের প্রক্রিয়াটিকে আরও সরলীকরণ করেছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, নতুন পোর্টালটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে স্বল্প শিক্ষিত মহিলারাও স্মার্টফোনের মাধ্যমে খুব সহজেই আবেদন করতে পারেন। ফর্মে অনেক সময় কারিগরি কারণে সব তথ্য আপলোড করা সম্ভব হয় না, তাই নবান্নের নির্দেশ—আবেদনকারীর প্রাথমিক তথ্য সঠিক থাকলেই আবেদনটি যাচাইয়ের (Analysis) জন্য গ্রহণ করা হবে।
সব তথ্য না দিলেও চলবে—এর অর্থ এই নয় যে পরিচয়পত্র ছাড়াই আবেদন করা যাবে। প্রকল্পের সুবিধা পেতে নিম্নোক্ত তথ্যাদি বাধ্যতামূলক:
১. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ডিবিটি: টাকা সরাসরি পেতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক এবং ডিবিটি (DBT) সক্রিয় থাকা একান্ত জরুরি।
২. আধার ও ভোটার আইডি: পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আধার এবং ভোটার কার্ডের তথ্য অবশ্যই থাকতে হবে।
৩. সোশ্যাল ইনক্লুশন রেজিস্টার (SIR): শুধুমাত্র যাঁদের নাম সরকারের নির্দিষ্ট এসআইআর তালিকায় থাকবে, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।
আগে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ছাড়া আবেদন করা কঠিন ছিল, কিন্তু নতুন আপডেটে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই কার্ড না থাকলেও বিকল্প পরিচয়পত্র বা পদ্ধতির সুযোগ রাখা হবে যাতে যোগ্য কেউ বঞ্চিত না হন। এছাড়া, যাঁরা সিএএ (CAA)-এর অধীনে আবেদন করেছেন বা যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে, তাঁদের নামও তালিকা থেকে কাটা হবে না।
নবান্নের এই নয়া পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো আবেদনের জটিলতা কমিয়ে প্রতিটি যোগ্য মহিলার কাছে স্বচ্ছভাবে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তবে ১ জুনের প্রথম কিস্তি নিশ্চিত করতে উপভোক্তাদের অবশ্যই তাঁদের ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি (KYC) স্ট্যাটাস এবং আধার ম্যাপিং পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।





