অনশন ভাঙার শর্ত দিলেন সোনম ওয়াংচুক! সরকার মানবে কি এই ৩ দাবি?

দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা অনশন থেকে অবশেষে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে শর্তহীনভাবে নয়, বরং সরকারের কাছে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি রেখে অনশন ভাঙার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, এই তিনটি শর্তের মধ্যে যেকোনো একটি পূরণ করা হলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।

কী কী শর্ত রেখেছেন ওয়াংচুক? নিজের অফিশিয়াল X হ্যান্ডেলে সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আগামী ২০ জুলাই অনশন ভাঙার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর জন্য তিনি যে ৩টি শর্ত দিয়েছেন তা হলো:

  • ১. দায় স্বীকার: শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক ব্যর্থতা এবং NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ভার সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।

  • ২. সংসদীয় প্রতিশ্রুতি: যদি তিনি এবং CJP নেতৃত্ব সংসদে যাওয়ার অনুমতি পান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা তাঁকে আশ্বাস দেন যে, এই বিষয়টি সংসদে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে, তবেই তিনি অনশন শেষ করবেন।

  • ৩. নেতাদের সাক্ষাৎ: শারীরিক বা অন্য কোনো কারণে তাঁর পক্ষে সংসদ যাওয়া সম্ভব না হলে, রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও নেতাদের হাসপাতালে এসে তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

হাসপাতালে ‘অবৈধ আটকের’ অভিযোগ: বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোনম ওয়াংচুক প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, হাসপাতালে তাঁকে কার্যত ‘অবৈধভাবে’ আটকে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে তাঁর চলাফেরা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ এই আন্দোলনের ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় গত শনিবার পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে।

এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াংচুকের এই শর্তগুলোর কোনো উত্তর আসে কি না, নাকি লাদাখের এই সমাজকর্মীর আন্দোলন আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।