অনলাইন ভিডিও দেখে হত্যার ছক! হায়দরাবাদে প্রেমিকের দেহ টুকরো টুকরো করে ভাগাড়ে ফেলল অভিযুক্ত

তেলেঙ্গানায় অনলাইন ভিডিও দেখে আইডিয়া নিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন ও দেহ টুকরো টুকরো করার এক হাড়হিম করা ঘটনা সামনে এল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর কামেপাল্লি থানার অধীনের এক এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খুনের নেপথ্যে ঋণ ও টাকা
জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি কামেপাল্লি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি হায়দরাবাদে জমি-বাড়ি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অভিযুক্তের পরিচয়: মূল অভিযুক্ত ৩৬ বছরের এক ব্যক্তি, যিনি ফার্মাসিতে মাস্টার্স করেছেন।
খুনের কারণ: অভিযুক্ত ঋণের জালে জর্জরিত ছিলেন। ওমানে যাওয়ার খরচ জোগাড় করা এবং মৃত ব্যক্তির থেকে সোনার গয়না ও নগদ টাকা চুরি করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
সূত্র মারফত খবর, মৃত ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তের খাম্মামের এক লাইব্রেরিতে আলাপ হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ভুক্তভোগীর আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়ায়, তাঁর সমস্ত টাকা এবং গয়না হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা মাথায় আসে অভিযুক্তের।
অনলাইনে ভিডিও দেখে নৃশংস পরিকল্পনা
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঠান্ডা মাথায় অনলাইনে ভিডিও সার্চ করে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে নানা ভিডিও দেখে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মতো তিনি একটি ছুরিও কেনেন।
খুনের দিন: ১৬ সেপ্টেম্বর, অভিযুক্ত প্রেমিকের বাড়িতে যান। ভুক্তভোগী যখন ঘুমোচ্ছিলেন, সেই সুযোগে পরিকল্পনামাফিক তাঁর গলা কেটে ও একাধিকবার ছুরির আঘাতে খুন করেন।
দেহ লোপাট: এরপর তিনি দেহের অংশ টুকরো টুকরো করে তা কম্বলে মুড়ে মোটরবাইকে করে নিয়ে গিয়ে ভাগাড়ে ফেলে দেন। এরপর বাড়ি থেকে সমস্ত প্রমাণ সরিয়ে ফেলার জন্য রক্তের দাগ মুছে ফেলেন।
তদন্ত ও গ্রেফতার
কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বরে মৃত ব্যক্তির ভাই থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই খুনের ঘটনা সামনে আসে এবং মূল অভিযুক্ত-সহ তাঁর আরও দুই সহযোগীর খোঁজ পায়। তাঁদের গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরবাইক, দু’টি ছুরি, সোনার চেইন ও মৃতদেহের অংশ উদ্ধার করেছে।