অনলাইন দুনিয়ায় শিশুদের সুরক্ষা কই? কড়া পদক্ষেপ করে কেন্দ্রকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

সমাজমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার কড়া পদক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্রমবর্ধমান যৌন নিগ্রহ, শোষণ এবং সাইবার বুলিংয়ের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকারকে নোটিস ধরাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’ (জেআরসিএ)-এর তরফে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের মূল বক্তব্য, বর্তমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট বা কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় কমবয়সী শিশুরা সহজেই নিজেদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে রেজিস্ট্রি করে অ্যাকাউন্ট খুলছে। এর ফলে তারা অজান্তেই সাইবার অপরাধের ফাঁদে পা দিচ্ছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কন্টেন্টের সংস্পর্শে এসে মানসিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচীও স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের সুরক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী ফায়ারওয়াল বা নিরাপত্তা বলয় থাকা একান্ত প্রয়োজন।
১৮৭২ সালের ভারতীয় চুক্তি আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নাবালকদের কোনো ধরনের আইনি চুক্তি করার অধিকার থাকে না। অথচ সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তাদের বাধ্যতামূলকভাবে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে সম্মতি জানাতে হয়। এই অসংগতির বিরুদ্ধে সওয়াল করে মামলাকারীদের আর্জি, চুক্তি আইনে নাবালকদের যে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা যেন ডিজিটাল মাধ্যমেও কঠোরভাবে বলবৎ করা হয়। কেন্দ্র সরকার যেন সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে নির্দেশ দেয় যে, ১৮ বছরের কম বয়সীরা কোনো চুক্তিপত্রে সম্মতি দিলেও তার যেন কোনো আইনি বৈধতা না থাকে।
পাশাপাশি, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। মামলার আবেদন অনুযায়ী, সমাজমাধ্যমে শিশুদের নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হোক। ই-কেওয়াইসি বা অন্য কোনো স্বীকৃত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিভাবকের সঠিক পরিচয় যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। মামলাকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, তারা শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা চান না, কারণ পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত করার পক্ষেই এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।