স্বর্গ-মর্ত্যের দ্বার খোলে এই রাতেই! কৌশিকী অমাবস্যার মহাসমারোহে জনপ্লাবন বীরভূমের তারাপীঠে

ধর্মীয় বিশ্বাস এবং তন্ত্রসাধনার জগতে অন্যতম পবিত্র ও রহস্যময় তিথি হলো কৌশিকী অমাবস্যা। সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সাধকদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ অমাবস্যার পবিত্র রাতে ক্ষণিকের জন্য স্বর্গ এবং মর্ত্যের গোপন দ্বার উন্মেুক্ত হয়ে যায়। এই অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই সিদ্ধিলাভ, গুপ্তসাধনা এবং তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের জন্য এই তিথিকে অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই প্রগাঢ় বিশ্বাসকে পাথেয় করে বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে ভক্তদের ঢল নেমেছিল বীরভূমের ঐতিহাসিক তারাপীঠ মন্দির চত্বরে, যা এককথায় জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।
সাধক মহলের বিশ্বাস রয়েছে যে, কৌশিকী অমাবস্যার এই অমাবস্যা তিথির অন্ধকারে কঠোর তপস্যা ও সাধনা করলে মানুষের কূলকুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হতে পারে এবং সাধনায় সিদ্ধিলাভ অর্জনের পথ প্রশস্ত হয়। এই অলৌকিক তিথির বিশেষ সন্ধ্যায় মা তারার মহামন্দিরে আরতি দেখার জন্য মন্দির চত্বরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সারাদিন ধরে মন্দিরের চারপাশ ঘণ্টাধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং ধূপ-ধুনোর সুবাসে মুখরিত হয়ে ওঠে। অর্কিড, পদ্ম এবং রজনীগন্ধার ছড়াছড়িতে অপরূপ ও দিব্য সাজে সজ্জিত মা তারার বিমোহিত রূপ দর্শনের জন্য গর্ভগৃহের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে। সুসজ্জিত পঞ্চপ্রদীপ হাতে প্রায় ২০ মিনিট ধরে অত্যন্ত ভক্তিভরে বিশেষ সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হয়।
এদিন দুপুরে প্রাচীন নিয়ম-রীতি ও নিষ্ঠা মেনে মা তারাকে রাজকীয় ভোগ নিবেদন করা হয়। দেবীর বিশেষ ভোগের থালায় সুসজ্জিত ছিল সাত রকমের ভাজা, মাছের মাথা, সাদা চালের সুগন্ধী ভাত, পোলাও, সুস্বাদু বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি এবং টাটকা ফল। পাশাপাশি নিয়ম মেনে আতপ চাল, গোটা নারকেল, ১০৮টি লাল জবা ফুল, খাঁটি ঘিয়ের প্রদীপ এবং অর্ঘ্য নিবেদন করা হয় দেবীকে। পৌরাণিক ও লোককথা অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যার রাতে কঠোর সাধনা করে সিদ্ধিলাভের পরই মা তারার দিব্য দর্শন পেয়েছিলেন মহান সাধক বামদেব। কিংবদন্তি রয়েছে যে, তিনি তারাপীঠ মহাশ্মশানের পবিত্র শ্বেত শিমূলতলায় বসে এই গোপন সাধনা সম্পন্ন করেছিলেন। সেই সুপ্রাচীন ঐতিহ্য এবং তন্ত্রসাধনার ধারাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর তারাপীঠে মহা সমারোহে পালিত হয় কৌশিকী অমাবস্যা।