মৃত্যুর মুখ থেকে জীবন ফিরে পেল হাতি! অসমের চা-বাগানে বনকর্মীদের এমন বীরত্ব দেখলে কুর্নিশ জানাবেন

অসমের গোলাঘাট জেলার নুমালিগড়ের বাকিয়াল এলাকা থেকে সম্প্রতি এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিনের আলো ফুটতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান যে, একটি বিশাল বুনো হাতি তার গলায় শক্তভাবে আটকে থাকা একটি পেল্লায় ট্রাক্টরের টায়ার নিয়ে অত্যন্ত অসহায়ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চা-বাগানের সবুজ পাতার আড়ালে হাতিটিকে এভাবে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, খাবারের সন্ধানে লোকালয়ের কাছাকাছি আসার সময়ই কোনোভাবে ওই ভারী টায়ারটি হাতিটির গলার চারপাশে ফেঁসে গিয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় বন বিভাগের কাছে, আর তারপর শুরু হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান।

খবর পাওয়া মাত্রই গোলাঘাট বন বিভাগের অভিজ্ঞ আধিকারিকরা এবং ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (ডব্লিউটিআই) অধীনস্থ সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড কনজারভেশন (সিডব্লিউআরসি)-এর একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুরো উদ্ধারকাজটির অত্যন্ত সফল নেতৃত্ব দেন সিডব্লিউআরসি-র সেন্টার হেড তথা বিশিষ্ট প্রধান পশুচিকিৎসক ড. ভাস্কর চৌধুরী। এছাড়াও, এই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন কোহরা স্টেট ডিসপেনসারির দক্ষ পশুচিকিৎসা আধিকারিক বিশ্বজিৎ বরুয়াও। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের এই বিশেষ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর থেকেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সারাদিন ধরে হাতিটির গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে শুরু করে, যাতে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

অবশেষে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বেশ কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর চেষ্টার পর সন্ধ্যার ঠিক আগে হাতিটিকে নিরাপদে ট্রাঙ্কুলাইজ বা রাসায়নিকভাবে অচেতন করা হয়। অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকদের দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে হাতিটির গলা থেকে শক্ত টায়ারটি কেটে আলাদা করার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকারী দলের প্রতিটি সদস্যের লক্ষ্য ছিল একটাই—যাতে এই পুরো প্রক্রিয়ায় হাতিটির শরীরে ন্যূনতম কোনো আঘাত বা ক্ষত না লাগে। চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সুচারু অভিযানের ফলেই সফলভাবে টায়ারটি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। টায়ারের এই মারাত্মক ফাঁদ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার পর হাতিটিকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং সুস্থ অবস্থায় সেটি নিরাপদে তার নিজস্ব পালের কাছে ফিরে যায়। বনকর্মী ও পশুচিকিৎসক দলের এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।