অগ্নিগর্ভ বলিভিয়া: ৫০ দিনের আন্দোলনে স্তব্ধ দেশ, কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠে নামল সেনাবাহিনী

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে টানা ৫০ দিন ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে দেশটিতে কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে। পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি রদ্রিগো পাজ দেশজুড়ে ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মূলত রাষ্ট্রপতি রদ্রিগো পাজের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও, বর্তমানে এটি বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বিতর্কিত ভূমি সংস্কার আইন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট এখন আন্দোলনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলিভিয়ার রাজস্ব ঘাটতি কমানো এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের মুখে সরকার জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিলে জনরোষ চরমে পৌঁছায়।

আন্দোলনকারীরা দেশের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড তৈরি করে খাদ্য, জ্বালানি এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। ভূমি সংস্কার আইনের আওতায় ঋণের বিপরীতে কৃষিজমি বন্ধক রাখার সরকারি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল আকাশচুম্বী। জনগণের আশঙ্কা ছিল, এই আইনের ফলে বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো গ্রামীণ মানুষের জমি দখল করে নেবে। যদিও পরবর্তীতে সরকার কিছু সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের চেষ্টা করে, কিন্তু ততক্ষণে আন্দোলনের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

সহিংস বিক্ষোভের কারণে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক খবর হলো, সড়ক অবরোধের কারণে সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ শ্রমিক, পরিবহন কর্মী, শিক্ষক ও গ্রামীণ জনপদ এখন একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইভো মোরালেসের সমর্থকরা, যারা সরাসরি আন্দোলনে যোগ দিয়ে অবরোধকে আরও জোরালো করেছেন।

রাষ্ট্রপতি রদ্রিগো পাজ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনজীবন সচল করতে এবং সড়কপথ পুনরায় খুলে দিতে সেনাবাহিনী ও বুলডোজার ব্যবহার করা হবে। সরকারের দাবি, জাতীয় স্বার্থে এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ এখনও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল বলিভিয়ার এই পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty