‘নদীর গর্জন শুনেই বেরিয়ে এলাম…’ রাজৌরিতে প্রকৃতির তাণ্ডবলীলায় সর্বস্বান্ত পরিবার, মেঘভাঙা বৃষ্টির ধ্বংসলীলায় হাহাকার

১৯ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার থানামান্ডি সাবডিভিশনের রাজধানী পঞ্চায়েত এলাকায় এক ভয়ংকর মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বান আছড়ে পড়ে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চারজন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং পাহাড়ি এই জনপদে ধ্বংসের কালো ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, রাজধানী পঞ্চায়েতের প্রায় ১৪টি ভিন্ন স্থানে একই সঙ্গে মেঘভাঙা বৃষ্টি শুরু হয়, যার ফলে স্থানীয় নালা ও নদীগুলিতে আচমকা বিশাল জলের স্রোত নেমে আসে। জল এবং বিশাল পাথরের এই ঢলের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে প্রধান বাসস্ট্যান্ড সম্পূর্ণ ভেসে যায়। জলের তোড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় একের পর এক গাড়ি এবং বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন।
এই চরম বিপর্যয়ের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী পঞ্চায়েতের একটি হতদরিদ্র পরিবার। সেই ভয়ঙ্কর রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আব্দুল গনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ১৯ জুলাই গভীর রাতে আনুমানিক ৩টা থেকে পৌনে ৪টার মধ্যে হঠাৎ করেই বিধ্বংসী বন্যা শুরু হয়। চোখের পলকে নদীর প্রবল জলস্তর তাঁদের বসতভিটে পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং চোখের সামনেই তাদের আস্ত বাড়িটি সম্পূর্ণ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নদীর গর্জন এবং পাথর ভাঙার বিকট শব্দ শুনে তাঁরা সপরিবারে কৌশলে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচলেও বর্তমানে একটি সরকারি স্কুলে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং প্রশাসনের প্রাথমিক সাহায্য পৌঁছানোর আগেই প্রকৃতির এই তাণ্ডব সবকিছু গ্রাস করে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিগত কয়েক দশকে এমন ভয়াবহ এবং সর্বগ্রাসী হড়পা বান তারা দেখেননি। পাহাড়ি অঞ্চলের রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ভেঙে চুরে চৌচির হয়ে গেছে এবং কৃষকদের বছরের পর বছর ধরে তিলে তিলে গড়া চাষের জমি গভীর জলের তলায় তলিয়ে গেছে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে রাজৌরির সরকারি পরিকাঠামো, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাড়িঘর এবং কৃষিজমির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় জলবায়ুর অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির এই ক্রমবর্ধমান ঘটনা পরিবেশের চরম সংকটকে তুলে ধরছে। এই ধরনের চরম আবহাওয়ার মুখে পাহাড়ি জনপদগুলি কতটা অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, রাজধানী পঞ্চায়েতের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা তারই এক নির্মম দলিল হয়ে রইল।