ডন ৩ ছাড়তেই রণবীরের পিঠে মোক্ষম ছড়ি ঘোরালেন ফারহান! নাম না করেই তুললেন বিস্ফোরক প্রশ্ন!

বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিংয়ের বহুল আলোচিত বহুচর্চিত সিনেমা ‘ডন ৩’ থেকে হঠাৎ করেই সরে দাঁড়ানোর বিতর্কিত বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে ভক্ত ও সমালোচকদের মুখে মুখে ঘুরছিল। তবে মাঝপথে সেই জল কিছুটা থিতিয়ে গেলেও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক ফারহান আখতারের করা একটি বিশেষ মন্তব্য এই পুরনো বিতর্ককে ফের এক পলকে উসকে দিয়েছে। পরিচালক এই সাক্ষাৎকারে সরাসরি রণবীরের নাম উচ্চারণ না করলেও তাঁর অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য যে অত্যন্ত সুকৌশলে ‘ডন ৩’ প্রজেক্টের দিকেই আঙুল তুলছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা উল্টালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ফারহান তাঁর ডেবিউ কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর সফল ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের বিশেষ আবহে খবরের শিরোনামে রয়েছেন। আর ঠিক এই আবেগঘন মুহূর্তেই তিনি তাঁর প্রথম সিনেমার একটি পুরনো স্মৃতির আড়ালে রণবীরের প্রজেক্ট ত্যাগের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে টেনে এনেছেন।

हाल ही में দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া অত্যন্ত খোলামেলা ও অন্তরঙ্গ এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক ফারহান আখতার ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের পেছনের এক অজানা ও চমকপ্রদ গল্প সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তিনি জানান যে ছবির প্রি-প্রোডাকশন ও মূল শুটিং শুরু হওয়ার মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন আগে অভিনেতা সাইফ আলি খানের ডেটস বা সময় সংক্রান্ত মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সেই সময়ে হঠাৎ করেই সাইফের অন্য একটি প্রজেক্টের শিডিউল আমূল বদলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি সেই মেগা প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফারহান অকপটে স্বীকার করেন যে নতুন পরিচালক হিসেবে সেই ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে সাইফের হঠাৎ করে ছবি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটি তাঁর কাছে একটা বিশাল বড় মানসিক ধাক্কা ছিল।

পরিচালকের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল যে সাইফের ওই বিশেষ চরিত্রের জন্য তিনি মনেপ্রাণে অন্য কোনো অভিনেতাকেই মানাতে পারছিলেন না এবং ওই নির্দিষ্ট কাস্টিং নিয়ে তাঁর মনে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পারস্পরিক আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সাইফ ফের ওই ছবির মূল কাস্টিংয়ে ফিরে আসেন এবং বড় পর্দায় তাঁর সেই আইকনিক চরিত্রটি দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়। এই পুরনো ঘটনার রেশ টেনেই পরিচালক সরাসরি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা রণবীর সিংয়ের ‘ডন ৩’ থেকে হঠাৎ প্রস্থান করার বিতর্কিত প্রসঙ্গটি অবলীলায় টেনে আনেন।

যদিও এই পুরো আলোচনায় তিনি কোথাও একবারের জন্যও রণবীরের নাম সরাসরি মুখে আনেননি, তবুও তাঁর ইঙ্গিত ছিল একেবারে স্পষ্ট ও শাণিত। ফারহান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে সাইফ আলি খানের ঐতিহাসিক ঘটনার মতো হুবহু একই রকম পরিস্থিতিতে ঠিক শুটিং ফ্লোরে নামার আগের মুহূর্তে রণবীর সিংও এই হাই-প্রোফাইল প্রজেক্ট থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর এক চরম উপহাসমূলক ও হালকা চালে তিনি মন্তব্য করেন, “ব্যাপারটা যেন আজকালকার ইন্ডাস্ট্রিতে এক্কেবারে একটা ট্রেন্ড বা প্যাটার্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে!” পরিচালকের এই তীক্ষ্ণ ও তীর্যক মন্তব্য শোনার পর ইন্টারভিউয়ারও আর হাসি চেপে রাখতে পারেননি। এরপর ফারহান আরও যোগ করেন যে এই ধরণের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি কেবল তাঁর একার কিসমতেই জোটে না, বরং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্য বহু প্রজেক্টের ক্ষেত্রেও নির্মাতাদের এমন অপ্রত্যাশিত বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে রণবীর সিং যখন আচমকা ‘ডন ৩’ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন, তখন থেকেই বলিপাড়ার অন্দরে পরিচালক ও অভিনেতার পারস্পরিক শীতল সম্পর্ক ও মতপার্থক্যের গুঞ্জন তীব্র আকার ধারণ করেছিল। বিভিন্ন নামী সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে তখন জোরালো দাবি করা হয়েছিল যে প্রজেক্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর রণবীর নাকি তাঁর চুক্তি অনুযায়ী পাওয়া সাইনিং অ্যামাউন্টের সম্পূর্ণ অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ক্ষুব্ধ নির্মাতাদের তরফ থেকে প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে হওয়া আর্থিক ক্ষতির জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে বলেও জোর চর্চা চলেছিল। পরবর্তীতে এই জল গড়ায় একেবারে ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ বা FWICE-এর চৌকাঠ পর্যন্ত। যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথমে কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হলেও পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায় এবং স্পষ্ট জানানো হয় যে রণবীরের ওপর কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।