হেস্টিংসে রাজকীয় বরণ শুভেন্দুর! ২০৭টি পদ্মের মালা ও শঙ্খধ্বনিতে কাঁপল বিজেপি কার্যালয়

বাংলার রাজনৈতিক আকাশে আজ এক নতুন সূর্যোদয়। সোমবার সকালে কলকাতা সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন মুহূর্তের। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হেস্টিংসের বিজেপি কার্যালয়ে জানানো হল রাজকীয় সংবর্ধনা। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসার ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে এদিন তাঁকে পরানো হল ২০৭টি তাজা পদ্মফুলের এক বিশাল মালা। (BJP welcomes Suvendu Adhikari with 207 lotus garland)

সকাল থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে ছিল সাজ সাজ রব। নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী, এদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ চিনার পার্কের ফ্ল্যাট থেকে বের হন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে না গিয়ে তিনি সোজা পৌঁছে যান বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের বাসভবনে। ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে ৯টা। সেখানে দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও একান্ত আলাপচারিতা চলে। এরপর সকাল ১০টা নাগাদ শমীক ভট্টাচার্যের গাড়িতে চেপেই হেস্টিংস কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শুভেন্দু অধিকারী হেস্টিংস কার্যালয়ে পা রাখতেই চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে শঙ্খধ্বনিতে। উপস্থিত মহিলা কর্মীরা প্রথা মেনে বরণডালা সাজিয়ে তাঁকে তিলক পরিয়ে বরণ করে নেন। ২০৭টি পদ্মের বিশাল মালা যখন তাঁর গলায় ওঠে, তখন জয় শ্রী রাম ধ্বনিতে ফেটে পড়েন কর্মীরা। উত্তরীয় পরানোর পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় মা দুর্গার একটি সুদৃশ্য মূর্তি— যা অশুভ শক্তির বিনাশ ও নতুন শাসনের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন দলীয় নেতৃত্ব।

মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এদিন দলীয় কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধনহারা। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এটিই ছিল দলীয় কার্যালয়ে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা। উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, এই ২০৭টি পদ্ম কেবল ভোটের সংখ্যা নয়, এটি বাংলার কোটি কোটি মানুষের আস্থার প্রতিফলন। সংবর্ধনা পর্ব শেষে শুভেন্দু অধিকারী দলীয় নেতাদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন, যেখানে আগামী দিনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy