স্ক্যানারের নিচে ডায়মন্ড হারবার এফসি! রাজ্য গেমসে ‘দুর্নীতি’র তদন্তে বড় পদক্ষেপের ডাক নিশীথের

দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এবার তাঁর নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফুটবল ক্লাব ‘ডায়মন্ড হারবার এফসি’। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী সরাসরি ক্লাবের আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কী অভিযোগ নিশীথের? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিশীথ প্রামাণিক অভিযোগ করেন, “ডায়মন্ড হারবার এফসি-র মাধ্যমে কি কালো টাকা সাদা করা হতো?” তিনি এই ক্লাবের দ্রুত উত্থান এবং পরিচালনার জন্য আসা বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসত, তা নিয়ে গভীর তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রয়োজনে ইডি (Enforcement Directorate)-কে দিয়ে এই ফুটবল ক্লাবের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি, বিধাননগরের মাঠ দখল করে ক্লাবের প্র্যাকটিস চালানোর বিষয়টি নিয়েও সরব হয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সেই মাঠ পুনর্দখল করা হয়েছে।

স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ: শুধু ফুটবল ক্লাব নয়, এদিন স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন নিশীথ প্রামাণিক। গত বছর মালদহে আয়োজিত রাজ্য গেমসে ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বড় অংশ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

  • পুষ্টিকর খাবারের অভাব: ক্রীড়াবিদদের জন্য বরাদ্দ টাকা খরচ না করে তাঁদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছিল।

  • থাকার ব্যবস্থা: অনেক ক্রীড়াবিদকে মেঝেতে ঘুমানোর মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছিল।

নিশীথ প্রামাণিকের দাবি, রাজ্য গেমসের নামে চলা এই দুর্নীতির প্রতিটির অডিট করা হবে এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে কেবল ‘কান’ নয়, দুর্নীতির রাঘববোয়ালদের বা ‘মাথা’দেরও খুঁজে বের করা হবে।

এখন দেখার বিষয়, নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পর রাজ্য ক্রীড়া প্রশাসনের অন্দরে আরও বড় কোনো প্রশাসনিক রদবদল বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy