কয়েক বছর আগে ‘ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড’ বা ল্যাবে তৈরি হিরে যখন বাজারে এসেছিল, তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। এবার সেই জল্পনা সত্যি করে খনি নয়, বরং ল্যাবের ভেতরেই তৈরি হতে চলেছে খাঁটি সোনা! কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সোনা কি আমাদের হাতের আংটি বা গলার হারের দাম কমিয়ে দেবে? না কি এটি কেবলই গবেষণাগারের এক দামী পরীক্ষা?
কী এই ল্যাবে তৈরি সোনা? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ল্যাবে তৈরি সোনা কোনো ‘নকল’ বা ‘ইমিটেশন’ নয়। এটি আণবিক ও রাসায়নিকভাবে খনি থেকে পাওয়া ২৪ ক্যারেট সোনার মতোই খাঁটি। মূলত প্ল্যাটিনাম বা পারমাণবিক মার্কারির (পারদ) আণবিক পরিকাঠামো পরিবর্তন করে এটি তৈরি করা হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নিউক্লিয়ার ট্রান্সমিউটেশন’। অর্থাৎ, পারমাণবিক চুল্লিতে উচ্চশক্তির কণা দিয়ে আঘাত করে এক ধাতুকে অন্য ধাতুতে (সোনায়) রূপান্তর করা।
গয়নার দাম কি কমবে? ক্রেতাদের জন্য আপাতত কোনো সুখবর নেই। ল্যাবে হিরে তৈরি করা যতটা সহজ ও সাশ্রয়ী, সোনা তৈরি করা তার ঠিক উল্টো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
অত্যন্ত ব্যয়বহুল: সামান্য কয়েক গ্রাম ল্যাব-সোনা তৈরি করতে যা খরচ হবে, তা খনি থেকে সোনা তোলার খরচের চেয়ে কয়েকশো গুণ বেশি!
পরিমাণে নগণ্য: বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় কেবল আণুবীক্ষণিক বা অতি সামান্য পরিমাণ সোনা তৈরি করা সম্ভব, যা দিয়ে গয়না বানানো অসম্ভব।
বাণিজ্যিক বাধা: এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। তাই এখনই সোনার দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
বিশেষজ্ঞের মত: কল্পনা বনাম বাস্তব ‘উইকেন্ড ইনভেস্টিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা অলোক জৈনের মতে, হিরে হলো কার্বনের একটি গঠন মাত্র, যা ল্যাবে তৈরি করা সহজ। কিন্তু সোনা একটি মৌলিক পদার্থ (Element)। একে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা অত্যন্ত জটিল এবং অস্থিতিশীল। ফলে এখনই ল্যাব গোল্ড দিয়ে বিয়ের গয়না গড়ার স্বপ্ন দেখা কিছুটা বাড়াবাড়ি।
বিনিয়োগে কার পাল্লা ভারী? মানুষ কয়েক হাজার বছর ধরে খনির সোনার ওপর বিশ্বাস করে আসছে। বুলিয়ান মার্কেটে এই সোনার পুনবিক্রয় মূল্য (Resale Value) নিশ্চিত। অন্যদিকে, ল্যাব গোল্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় কাটাতে এবং বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতেই বহু বছর সময় লাগবে।
সব মিলিয়ে বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার রোমাঞ্চকর হলেও, সাধারণ মানুষের জন্য সেই ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’-ই এখন সেরা ভরসা। ল্যাবে সোনা তৈরি হওয়া এখন কেবলই গবেষণার স্তরে সীমাবদ্ধ।





