সরকার গড়ছে বিজেপি, আর আতঙ্কে কাঁপছে মুর্শিদাবাদ! বিজয় মিছিল থেকে হামলার গুরুতর অভিযোগ

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে না হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে গেরুয়া আবির উড়ছে, ঠিক তখনই হিংসার আগুনে জ্বলল বহরমপুর শহর ও তৎসংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকা। সোমবার রাতভর চলল অবাধ ভাঙচুর, বাইক বাহিনী আর আগুন ধরানোর চেষ্টা। খাস কলকাতা থেকে দূরে জেলা সদরের এই ছবি এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।

বিজয় মিছিল নাকি তাণ্ডব?
বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি এবারও নিজেদের দখলে রাখতে সফল হয়েছে বিজেপি। লোকসভায় হারের পর বিধানসভাতেও কার্যত ‘অধীর পতন’ দেখেছে মুর্শিদাবাদ। সোমবার সন্ধ্যায় ফলাফল নিশ্চিত হতেই চুঁয়াপুর কদমতলা এলাকায় ডিজে বাজিয়ে বিজয় মিছিল বের করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, সেই মিছিল ভাকুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডুর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

বিপ্লববাবুর অভিযোগ, মিছিল থেকে জনা পনেরো দুষ্কৃতী হঠাতই তাঁর বাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জানালার কাঁচ, দরজা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির সামনে থাকা বেশ কয়েকটি বাইক ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। উপপ্রধানের দাবি, “বাড়িতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। বরাতজোরে আমরা বেঁচে গিয়েছি।” খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বহরমপুর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

থানার সামনেই আক্রান্ত টিএমসিপি অফিস
চুঁয়াপুরে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় শহরের প্রাণকেন্দ্রে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অফিসটি বহরমপুর মহিলা থানা ও জেলা পুলিশ লাইন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় বসে দুষ্কৃতীরা অফিসের চেয়ার-টেবিল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং দলীয় ফ্লেক্স ও হোর্ডিং ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। টিএমসিপি জেলা সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার বলেন, “বিজেপি জেতার পর শহরজুড়ে জঙ্গলরাজ শুরু করেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে যাবে।”

বিজেপির পাল্টা যুক্তি ও পুলিশের ভূমিকা
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বহরমপুরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। তাঁর সাফ কথা, “বিজেপি সমর্থকরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা গোষ্ঠীকোন্দল থাকতে পারে। সঠিক তদন্ত করলেই সত্য সামনে আসবে।” অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার সচিন মাক্কার জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে এবার ৮টি আসনে পদ্ম ফুটেছে। এই অভূতপূর্ব ফলের পর তৃণমূল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। তার ওপর সোমবার রাতেই নওদার ব্লক তৃণমূল সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ ও এক পঞ্চায়েত প্রধানের গ্রেফতারি জেলা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে, এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এখন আতঙ্কের প্রহর গুনছে বহরমপুর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy