সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। রামগঙ্গা ঘাট এলাকায় গভীর রাতে মাছবোঝাই একটি ট্রলার আটক করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর ‘ব্যান পিরিয়ড’ বা নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কীভাবে বিপুল পরিমাণ মাছ গভীর সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় আটক হওয়া ওই ট্রলারে প্রায় ৬৩ ক্যারেট মাছ ছিল বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার গভীর রাতে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রামগঙ্গা ঘাটে সন্দেহজনক ট্রলারটিকে ঘিরে ফেলেন। ট্রলারে বিপুল পরিমাণ মাছ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় যে সরকারি নিয়ম ভেঙে মাছ ধরা হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ। ট্রলারের মাঝি-সহ দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহ-মৎস্য আধিকারিক সুরজিৎ বাগ এই ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই ট্রলারটির লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রলারের মালিক ও মাঝির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ‘ব্যান পিরিয়ড’ চলাকালীন একটি অসাধু চক্র নিয়মিত নিয়ম ভেঙে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছে এবং তা কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বাজারে পাচার করছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই অবৈধ কারবার চলছে বলে তাদের দাবি। স্থানীয় বাসিন্দা অসিত বরণ গিরি বলেন, “এই সময়ে মাছের প্রজনন হয়, তাই নিষেধাজ্ঞা থাকে। কিছু ট্রলার মালিক সেই নিয়ম অমান্য করে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নষ্ট করছে। আমরা চাই এই অবৈধ মাছ ধরা অবিলম্বে বন্ধ হোক।”
ঘটনার পর মাছের প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও মৎস্য দফতর। একদিকে যখন অধিকাংশ মৎস্যজীবী সরকারি নির্দেশ মেনে জীবিকা নির্বাহ করেন, তখন এই ধরনের অসাধু চক্রের কার্যকলাপে সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, ট্রলারে থাকা বিপুল পরিমাণ মাছ দীর্ঘক্ষণ ঘাটে পড়ে থাকায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাছগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাথরপ্রতিমার এই ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারির ফাঁক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।





