সবুজ নাকি গেরুয়া—কার দিকে পাল্লা ভারী? বুথ ফেরত সমীক্ষায় ভোটের যে পরিসংখ্যান এল সামনে!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের যবনিকা পতন ঘটল। দীর্ঘ প্রচার, দুই দফার টানটান উত্তেজনা আর লাখ লাখ ভোটারের ভোটদানের পর এখন রাজ্যজুড়ে শুধুই প্রহর গোনার পালা। পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন—বাংলার ভাগ্যবিধাতা হিসেবে জনতা জনার্দন কাকে বেছে নিল, সেই উত্তর এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ইভিএম বন্দি। আগামী ৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে ফলাফল, কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়াতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল।

এবারের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, সর্বত্রই ভোটদানের হার ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই বিপুল উপস্থিতি বড় কোনো রাজনৈতিক রদবদল অথবা অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই আড্ডার মূল বিষয় এখন একটাই, শেষ হাসি কে হাসবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সবুজ শিবির কি তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে, নাকি দিল্লি জয়ের পর এবার কলকাতার মসনদেও উড়বে গেরুয়া বিজয় নিশান?

যদিও এবিপি আনন্দ এবার নিজস্ব কোনো এক্সিট পোল করেনি, তবুও চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস এবং ম্যাট্রিজ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় সমীক্ষক সংস্থাগুলোর রিপোর্ট রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ম্যাট্রিজ-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন (৪৩% ভোট), যেখানে তৃণমূলের ঝুলিতে যেতে পারে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন (৪১% ভোট)। অন্যদিকে, চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস-এর সমীক্ষা বলছে, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৬০টি আসনে জয়ী হতে পারে এবং তৃণমূল পেতে পারে ১৩০ থেকে ১৪০টি আসন। এই পরিসংখ্যানগুলো যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে রাজ্যে এক বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এক্সিট পোল মানেই চূড়ান্ত ফল নয়। অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে যে বুথ ফেরত সমীক্ষার সঙ্গে বাস্তবের ফলাফল মেলেনি। আধুনিক যুগে এআই সফটওয়্যার এবং চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়ায় সমীক্ষার সঠিকতা বা ‘অ্যাকিউরেসি’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবুও, উত্তেজনার এই আবহে মানুষের নজর এখন ৪ মে-র দিকে। সেদিনই ইভিএম খোলার পর স্পষ্ট হবে, বাংলার মানুষ ফের একবার বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখলেন নাকি রামধনুর রঙে রাঙাতে চাইলেন মহাকরণকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy