পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএ) চন্দ্রনাথ রথের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার চাঞ্চল্যকর মোড়। পেশাদার শুটারদের খোঁজে এবার ভিনরাজ্যে পাড়ি দিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ এবং সম্ভল জেলায় পৌঁছেছে পুলিশের একটি বিশেষ দল। তদন্তকারীদের রাডারে থাকা কয়েকটি সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের দিন এবং তার আগে বেশ কিছু মোবাইল নম্বরের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়েছে পুলিশের কাছে। এর মধ্যে একটি নম্বরের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল সম্ভল জেলার গুনৌর এলাকায়। প্রথমে এলাকা চিহ্নিত করতে কিছুটা বিভ্রান্তি হলেও পরে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সন্দেহভাজন সিম কার্ডের মালিক দুই যুবককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বাংলার পুলিশ। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের কোনো পেশাদার গ্যাং জড়িত থাকতে পারে। খুনের ধরন এবং নির্ভুল নিশানাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি কোনো আনাড়ি হাতের কাজ নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় করা একটি ‘সুপারি কিলিং’।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দ্বিতীয় মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বাইকটি পাওয়া যায়। গত বুধবার যেখানে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা হয়েছিল, সেই মধ্যমগ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া বাইকটির দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। এর আগে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে আরও একটি বাইক উদ্ধার হয়েছিল, যেটিতে ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। নতুন উদ্ধার হওয়া বাইকটির ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর যাচাই করে মালিকের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে একটি লাল রঙের চারচাকা গাড়িকে ঘিরে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গাড়িটির মালিক শিলিগুড়ির বাসিন্দা। তিনি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন এবং উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের সন্দেহ, ওই চারচাকা গাড়িতেই ৭-৮ জন আততায়ী উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে গা ঢাকা দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই অপারেশন চালানোর জন্য একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল বলেও ডিজিটাল প্রমাণ মিলেছে। ওই গ্রুপের মাধ্যমেই পালানোর রুট ম্যাপ ও হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।





