ভোটের হাওয়া যত তপ্ত হচ্ছে, ততই চড়ছে রাজনীতির পারদ। এবার খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মেজাজ হারানোকে কেন্দ্র করে তুলকালাম শুরু হলো বালিতে। বিজেপি প্রার্থীর হয়ে রোড শো করার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। হুড খোলা গাড়ি থেকে নেমে তৃণমূল কর্মীদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় শুভেন্দুকে।
ঠিক কী ঘটেছিল? আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বালির বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংয়ের সমর্থনে রোড শো করছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। লালবাবা কলেজের সামনে থেকে নিমতলা পর্যন্ত এই মিছিলে ভালোই ভিড় ছিল। কিন্তু মিছিল যখন নিমতলার কাছাকাছি পৌঁছায়, তখনই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একদল তৃণমূল কর্মী সমর্থক ঘাসফুল পতাকা নিয়ে শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
নিরাপত্তারক্ষীদের বাধা ও মেজাজ হারানো: স্লোগান শোনা মাত্রই কার্যত অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। তাঁর চোখেমুখে রাগের অভিব্যক্তি ছিল স্পষ্ট। হুড খোলা গাড়ির ওপর থেকেই চিৎকার করতে শুরু করেন তিনি। এক সময় রাগের মাথায় গাড়ি থেকে নেমে তৃণমূল কর্মীদের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে কোনওরকমে আটকে দেন।
পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ও ধস্তাধস্তি:
বিরোধী দলনেতাকে এভাবে হেনস্থা হতে দেখে চুপ থাকেনি বিজেপি কর্মীরাও। তাঁরাও পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে তেড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে জমায়েত সরিয়ে দিলে শুভেন্দুর মিছিল এগিয়ে যায়।
ওসির সাসপেনশন দাবি শুভেন্দুর: এই ঘটনার পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরণ ঘটান। তিনি বলেন, “বালি থানার ওসির সামনেই এই অসভ্যতা হয়েছে। ওসি যাতে সাসপেন্ড হন, তার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব।”
অতীতের স্মৃতি: উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ বা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তবে বালির ঘটনায় যেভাবে তিনি মেজাজ হারিয়ে গাড়ি থেকে নামতে চাইলেন, তা ভোটের মুখে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।





