শান্তিনিকেতনে নতুন রূপে হেরিটেজ ওয়াক, পর্যটকদের জন্য রবিবার থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা!

পর্যটকদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনকে নতুন রূপে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে শান্তিনিকেতন কর্তৃপক্ষ। এবার থেকে প্রতি রবিবার পর্যটকদের জন্য বিশেষ হেরিটেজ ওয়াক-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে।

শান্তিনিকেতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হেরিটেজ ওয়াকের জন্য নির্দিষ্ট গাইড থাকবেন, যারা পর্যটকদের শান্তিনিকেতনের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেবেন। বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ সম্প্রতি অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন এবং এই উদ্যোগের জন্য সমস্ত ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।

উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ঐতিহাসিক স্থানটি যেন পর্যটকরা ভালোভাবে দেখতে পারেন, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য গাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় লিফলেট থাকবে, যেখানে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলোর বিবরণ দেওয়া থাকবে।

করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। তবে এবার বিশ্বভারতীর প্রাঙ্গণ খুলে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু শান্তিনিকেতন এখন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, কর্তৃপক্ষ ইউনেস্কোর নির্দেশিকা মেনেই যাবতীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

হেরিটেজ ওয়াকের জন্য নতুন রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে, যা মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা থেকে চৈত্যবাড়ি হয়ে ছাতিমতলা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই নতুন পথের মাধ্যমে পর্যটকরা শান্তিনিকেতনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে, এই হেরিটেজ ওয়াকের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। যদিও টিকিটের মূল্য এখনো নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি, তবে আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে।

এই নতুন উদ্যোগের ফলে শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র স্থানের মাহাত্ম্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy