অভুক্ত পেটে মৃত্যু! কানহার বিখ্যাত বাঘিনী ও তার ৪ সন্তানের করুণ পরিণতিতে স্তব্ধ বন্যপ্রাণী প্রেমীরা

এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং নিরাপদ বাঘ সংরক্ষণাগার হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রদেশের কানহা জাতীয় উদ্যান থেকে এক হৃদয়বিদারক সংবাদ সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহটি কানহার মুক্কি এবং সারহি রেঞ্জের জন্য অভিশপ্ত প্রমাণিত হলো। মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে একটি বাঘিনীর পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সারহি বাফার রেঞ্জের বিখ্যাত বাঘিনী টি-১৪১ (আমাহি) এবং তার চারটি শাবকের রহস্যজনক ও বেদনাদায়ক মৃত্যু বন দপ্তরের নজরদারি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২১শে এপ্রিল। সেদিন থেকে ২৫শে এপ্রিলের মধ্যে সারহি রেঞ্জে একে একে তিনটি বাঘিনী শাবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর অসুস্থ বাঘিনী আমাহিকে উদ্ধার করে মুক্কি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। ২৯শে এপ্রিল ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে টি-১৪১। এর ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে, আমাহির চতুর্থ শাবকটিও তার মা ও ভাইবোনদের পথ অনুসরণ করে চিরবিদায় নিয়েছে।

প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট যে তথ্য তুলে ধরেছে, তা শুনে শিউরে উঠছেন পশুপ্রেমীরা। জানা গেছে, বাঘিনী ও তার শাবকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল ক্ষুধা ও চরম অপুষ্টি। প্রায় ১০ বছর বয়সী আমাহি শারীরিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে সে নিজে শিকার করতে পারছিল না। মা শিকার করতে না পারায় তার ওপর নির্ভরশীল শাবকগুলোও খাবারের অভাবে ধুঁকতে থাকে। ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, দুটি শাবকের পেট সম্পূর্ণ খালি ছিল। দীর্ঘ অনাহারে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায়। এছাড়া একটি শাবকের ফুসফুসে ভয়াবহ সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

কানহার উপ-পরিচালক প্রকাশ ভার্মা জানিয়েছেন, প্রোটোকল অনুযায়ী মৃতদেহগুলো দাহ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা কানহা পার্ক কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ বা মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর বড়সড় আঙুল তুলে দিয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, একটি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে একটি বাঘিনী ও তার ৪টি সন্তান দিনের পর দিন না খেয়ে মারা গেল, অথচ নজরদারি দলের কাছে কেন কোনো তথ্য ছিল না? কেন সময়মতো আমাহিকে চিকিৎসা বা খাবার দেওয়া হলো না? কানহার গর্ব ছিল এই টি-১৪১। পর্যটকদের ক্যামেরায় প্রায়ই ধরা দিত যে বাঘিনী, আজ তার পুরো বংশ নির্বংশ হওয়ায় সারহির জঙ্গলে কেবলই হাহাকার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy