পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) আজ বহুল প্রতীক্ষিত মাধ্যমিক ২০২৬-এর ফলাফল ঘোষণা করল। পর্ষদ সভাপতি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এবারের সামগ্রিক পাশের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের (৮৫.৫৬%) তুলনায় অনেকটাই বেশি। বরাবরের মতো এবারও মেধা তালিকায় জেলাগুলির জয়জয়কার লক্ষ্য করা গিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর থেকে বাঁকুড়া—ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মেধার ছটায় উজ্জ্বল এবারের মাধ্যমিকের রেজাল্ট।
শীর্ষে অভিরূপ, বীরভূমের প্রিয়তোষ দ্বিতীয়
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৯৮ নম্বর পেয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। তার প্রাপ্ত নম্বর পর্ষদের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি করেছে। বীরভূমের সরোজিনীদেবী শিশুমন্দিরের ছাত্র প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায় ৬৯৬ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
মেধা তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তিন জন—সৌর জানা (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন), অঙ্কন কুমার জানা (পূর্ব মেদিনীপুর) এবং মৈনাক মন্ডল (বাঁকুড়া)। প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। চতুর্থ স্থানে চার জন ৬৯৪ নম্বর পেয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন অরিজিৎ বর, রোম কর্মকার, সৌদীপ দাস ও সোহম জোয়ারদার।
পঞ্চম স্থানে রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী জায়গা পেয়েছেন। নদিয়ার দ্বৈপায়ন বিশ্বাস, হুগলির সমন্ত্যক কুন্ডু, আলিপুর দুয়ারের স্বরূপ কন্ঠ, উত্তর দিনাজপুরের বেদশ্রুতি সিংহ ও সন্ময় দেবনাথ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের আয়ুষ সাহা ও অনরণ্য সরকার—সকলেই ৬৯৩ নম্বর পেয়েছেন।
মেধা তালিকার ষষ্ঠ থেকে দশম:
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের আদৃত গোস্বামী (৬৯২)। সপ্তম স্থানে নবদ্বীপের স্বর্ণাভ সর্দার (৬৯১)। অষ্টম স্থানে মুর্শিদাবাদের প্রজ্ঞা সাহা (৬৯০), নবম স্থানে একই জেলার শাহরিন সুলতান (৬৮৯) এবং দশম স্থানে মুর্শিদাবাদের কস্তুরী সিংহ (৬৮৮)। মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা পড়ুয়াদের অধিকাংশের লক্ষ্যই ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা। পর্ষদের মতে, দ্রুত ফল প্রকাশ এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কারণেই পাশের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।





