চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এবার নাটকীয় মোড়। উত্তরপ্রদেশের বলিয়ার রাজ সিংকে গ্রেফতার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। একদিকে পুলিশের দাবি, রাজ সিং এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল চক্রী এবং শার্প শ্যুটার। অন্যদিকে, ধৃতের পরিবারের দাবি— রাজনৈতিক উত্থান রুখতেই গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন ক্ষত্রিয় মহাসভার এই সাধারণ সম্পাদক।
অযোধ্যায় নাটকীয় আটক, গ্রেফতার বক্সারে? রাজ সিংয়ের গ্রেফতারি নিয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যে বড়সড় অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা জামবন্তী সিং। আজমগড়ের ডিআইজি-কে লেখা চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, গত ৯ মে ছেলেকে নিয়ে তিনি অযোধ্যায় দর্শনের জন্য গিয়েছিলেন। লখনউতে এক বিজেপি নেতার মেয়ের বিয়ে সেরে ফেরার পথে অযোধ্যার একটি ধাবা থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা রাজকে তুলে নিয়ে যায়। অথচ পুলিশের নথিতে তাঁর গ্রেফতারি দেখানো হয়েছে বক্সারে। পরিবারের প্রশ্ন— কেন এই লুকোছাপা?
বোনের দাবি: রাজনীতির বলি রাজ রাজ সিংয়ের বোন দীপশিখা, যিনি পেশায় হাইকোর্টের আইনজীবী, তাঁর দাবি আরও চাঞ্চল্যকর। তিনি জানিয়েছেন, রাজ সিং বিজেপির টিকিটে ব্লক প্রধান নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এলাকায় তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে রাজনৈতিক শত্রুরা তাঁকে ফাঁসানোর ছক কষেছে। দীপশিখার সাফ কথা, “আমাদের পরিবারের কেউ কখনও কলকাতায় যায়নি। তাহলে সেখানে ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনায় রাজের নাম জড়াল কীভাবে?” এই ঘটনার উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত চেয়ে সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।
অপরাধের খতিয়ান বনাম ভিভিআইপি যোগযোগ পুলিশি নথি অবশ্য রাজ সিংয়ের অন্য একটি রূপ তুলে ধরছে। ২০২০ সালে এক ডিম ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে রাজ গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। পুলিশের দাবি, অপরাধ জগতের সঙ্গে রাজের পুরনো যোগসূত্র রয়েছে। তবে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে রাজের সোশ্যাল প্রোফাইল। রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে রাজের তোলা ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই কি রাজ অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
ত্রিশুলী অভিযানে পুলিশের সাফল্য পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি বড়সড় যৌথ অভিযানের পর রাজ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এই রাজ সিং আদতে পেশাদার খুনি না কি ষড়যন্ত্রের শিকার, তা জানতে ধৃতকে জেরা করছে গোয়েন্দারা। হাইপ্রোফাইল খুনের এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের যোগসূত্র এখন গোয়েন্দাদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





