রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বড় ধামাকা! নবান্নের মসনদে ‘দিলীপ-অগ্নি’ জুটি, বাংলার নয়া মন্ত্রিসভায় আর কারা?

আজ পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ রচিত হল। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর আজ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন দুই দাপুটে নেতা— দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল। রাজভবনের লনে যখন রাজ্যপাল তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের উল্লাসে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিজেপি কর্মীদের মতে, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান কেবল একটি শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি ‘বাংলার নবজাগরণের’ আনুষ্ঠানিক সূচনা। বহু কর্মী-সমর্থককে আজ রাজভবনের বাইরে আবেগে ভাসতে দেখা গেছে। দিলীপ ঘোষ, যিনি বছরের পর বছর মেদিনীপুর থেকে পাহাড় পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থেকে বিজেপিকে আজকের এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রিসভায় প্রবেশ সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ছিল। অন্যদিকে, আসানসোলের লড়াকু নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্য রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন।

শপথ নেওয়ার পর দিলীপ ঘোষ বলেন, “আজকের দিনটি বাঙালির আবেগের দিন। রবীন্দ্রনাথের আদর্শকে পাথেয় করেই আমরা সোনার বাংলা গড়ার শপথ নিলাম। এই জয় বাংলার সাধারণ মানুষের। গত কয়েক বছরে যারা বঞ্চিত হয়েছেন, ঘরছাড়া হয়েছেন, তাদের ঘরে ফেরানো এবং বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” আবেগপ্রবণ অগ্নিমিত্রা পালের গলায় শোনা যায় পরিবর্তনের সুর। তিনি বলেন, “বাংলার নারীশক্তি আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তোলাবাজি, দুর্নীতি আর অপশাসনের অন্ধকার কাটিয়ে আমরা এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগোব।”

এখন সবার নজর দপ্তরের দিকে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে দিলীপ ঘোষকে স্বরাষ্ট্র, পঞ্চায়েত বা শিল্পের মতো ভারী কোনো দপ্তর দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, নারী ও শিশু কল্যাণ বা শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন অগ্নিমিত্রা পাল। শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরহিত্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দপ্তর বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy