পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল অগ্নুৎপাতের পর এবার দিল্লির মসনদ রক্ষায় নড়েচড়ে বসল বিরোধী শিবির। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় ২০৬টি আসন জিতে ঐতিহাসিক ক্ষমতায়ন ঘটিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, ঘাসফুল শিবির মাত্র ৮০টি আসনে থমকে গিয়েছে। বাংলার এই হাইভোল্টেজ পরাজয় এবং আরও চারটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা করতে আগামী সপ্তাহেই জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A) জোট।
কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, বাংলায় এই বিপুল ব্যবধান সাধারণ পরাজয় নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে “ভোট চুরির” এক বৃহত্তর ছক।
ইন্ডি জোটের শরিক দলগুলি ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, অসম ও বাংলায় যেভাবে বিজেপি জয়লাভ করেছে, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য এক অশনি সংকেত। এই বৈঠকে মূলত ইভিএম (EVM) ইস্যু এবং কীভাবে এই “ভোট চুরি” আটকানো যায়, তা নিয়েই চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হবে।
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর যখন কংগ্রেসের একাংশ উল্লাসে মেতেছে, ঠিক তখনই দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “কংগ্রেসের কেউ কেউ এবং আরও অনেকে তৃণমূলের পরাজয় নিয়ে উল্লাস করছেন। তাদের অনুধাবন করা প্রয়োজন, অসম ও বাংলার জনরায় চুরি করাটা হল ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিজেপির একটি বড় পদক্ষেপ। তুচ্ছ রাজনীতি দূরে সরিয়ে এটি দেশের স্বার্থে দেখার সময়।”
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর যে ফলাফল সামনে এসেছে, তাতে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ২ টি আসন এবং বাম ও আইএসএফ একটি করে আসন। এই বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোটে রাখা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করাই এখন বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য। আগামী সপ্তাহের এই বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে জাতীয় রাজনীতি।





