মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন ৩২-এর তরুণী! স্ট্রোক ও হার্টের জটিল লড়াই জয় করলেন চিকিৎসকরা

হার্টের গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসা চলাকালীন আচমকা স্ট্রোকের শিকার। শরীরের একাংশ অবশ, বাকশক্তিহীন— মৃত্যু যখন দুয়ারে দাঁড়িয়ে, তখন চিকিৎসকদের সময়োচিত সিদ্ধান্তে নতুন জীবন পেলেন নদীয়ার মুড়াগাছার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী এক তরুণী। ৪৫ দিনের দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ।

কী ঘটেছিল ওই তরুণীর সঙ্গে? ২০২৩ সালে তরুণীর হৃদযন্ত্রে মাইট্রাল ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি ‘ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস’ নামক হৃদযন্ত্রের এক মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন হঠাৎ তাঁর শরীরের ডানদিক অবশ হয়ে যায় এবং কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত: পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, তিনি স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। মস্তিষ্কের বাম ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছিল। সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকরা ‘মেকানিক্যাল থ্রম্বেক্টমি’ পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ধমনীর রক্ত জমাট বের করে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি লড়াই: স্ট্রোকের চিকিৎসার পাশাপাশি ধরা পড়ে তরুণীর ‘এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন’ বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা। নিউরোলজি, কার্ডিওলজি এবং জেনারেল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের যৌথ উদ্যোগে তাঁর চিকিৎসা চলে। টানা ছয় সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৪৫ দিন পর তরুণী যখন বাড়ি ফিরলেন, তখন তাঁর কথা বলা, হাঁটাচলা কিংবা দৈনন্দিন কাজের মধ্যে কোনো স্নায়বিক জটিলতাই অবশিষ্ট ছিল না। চিকিৎসকদের এই অসামান্য প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সব মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy