মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সত্ত্বেও ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক ‘অটুট’ থাকার বার্তা দিল দিল্লি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানাল যে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ক অটুট থাকবে।

শুক্রবার (১ আগস্ট, ২০২৫) বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বিস্তৃত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। এটি গড়ে উঠেছে অভিন্ন স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় সংযোগের উপর ভিত্তি করে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই অংশীদারিত্ব বহু রকম পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং আত্মবিশ্বাসী যে এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও এগোবে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও ভবিষ্যতের পথ:

জয়সওয়াল এদিন ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর কথায়, “আমেরিকার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিগত কয়েক বছরে দৃঢ় হয়েছে এবং এই অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘India-U.S. COMPACT for the 21st century’-র মাধ্যমে এই পথ প্রশস্ত হচ্ছে।” এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ এবং ভারতের অনড় অবস্থান:

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই, ২০২৫) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ১লা আগস্ট থেকে আমেরিকা ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপাবে। তাঁর অভিযোগ, ভারতের ‘উচ্চ শুল্কনীতি’, ‘অনাবশ্যক বাণিজ্যিক বাধা’ এবং রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। ট্রাম্প এমনকি এই শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরেকটি অজানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

তবে, মার্কিন এই ঘোষণার পরও ভারতীয় প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড়। সরকারের শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্য-সহ ভারতের সংবেদনশীল খাতে কোনও ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই নেই। এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কৃষকদের স্বার্থই আমাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও চাপে আমরা নত হব না— সরকার এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট।” সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন শুল্কের প্রভাব ভারতীয় বাজারে খুব একটা বড়সড় নয় এবং তা মোকাবিলা করা সম্ভব। জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ফসল আমদানির বিষয়েও কোনও আপস করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, ভারত বাণিজ্যিক চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে রাজি নয়, বরং কৌশলগত এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে দৃঢ় রাখতে বদ্ধপরিকর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy